মতলব উত্তরে অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার ৪

গোলাম নবী খোকন : চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানা পুলিশের অভিযানে একটি দুর্ধর্ষ অনলাইন প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও বিপুল সংখ্যক ডেবিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার জহিরুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবক গত ১১ জানুয়ারি মতলব উত্তর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, অনলাইনে হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির নামে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সখ্যতা গড়ে ওঠার পর তাকে ফার্নিচার ব্যবসার লোভনীয় অফার দেওয়া হয়।
প্রতারক চক্রটি জহিরুলের কাছ থেকে নগদ অ্যাকাউন্ট ও ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন দফায় মোট ৮,৯৮,০০০ (আট লক্ষ আটানব্বই হাজার) টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পর চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের নির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রথমে মতলব উত্তর এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করে।
তারা হলো মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীপুর গ্রামের ইমাম উদ্দিনের ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (৫৭), অপর আসামী মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের চর পোয়ালী গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে মোঃ আল আমিন ওরফে রিফাত (৩০) পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার ও বুড়িচং এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয় হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মনির হোসেন (৪৫) (মূল হোতা) ও রাব্বি হোসেন ওরফে জাবেদ (২৪) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি মূলত গ্রামের সহজ-সরল মানুষ এবং বিশেষ করে নারীদের টার্গেট করতো। বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এনআইডি কার্ড দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতো। এরপর সেই অ্যাকাউন্টের চেক বই, ডেবিট/ভিসা কার্ড এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি প্রতারক চক্রটি নিজেদের দখলে রাখতো।
পরবর্তীতে তারা টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতো এবং ওই সব বেনামী অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বাধ্য করতো।
উদ্ধারকৃত মালামাল ও আইনি ব্যবস্থা মূল হোতা হেদায়েত উল্লাহ মনিরের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ০৬টি ব্যাংক চেক বই ১৯টি ডেবিট/ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় প্রচলিত আইনে মামলা হয়েছে ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে এবং এই নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
Views: 0





















