দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই ‘ভারপ্রাপ্ত সচিব’ পরিচয়—মতলব উত্তরে হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

সফিকুল ইসলাম রানা :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এই সুযোগে ওই ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফরিদুল হক মিয়া নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে বসে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সরেজমিনে সোমবার (২৯ মার্চ) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদুল হক মিয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে বসে বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ করছেন। তার জন্য নির্ধারিত আলাদা কক্ষ থাকলেও সেটি ব্যবহার না করে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষ ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, চেয়ার কোনো সমস্যা নয়। আমি ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছি। তিনি আরও বলেন, সচিব যেহেতু নেই, আমি ভারপ্রাপ্ত সচিবের পরিচয় দিতেই পারি।
তবে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিতে হলে অবশ্যই দাপ্তরিক আদেশ বা লিখিত অনুমোদন থাকতে হবে। শুধুমাত্র মৌখিকভাবে এ ধরনের দায়িত্ব পালন করার কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন,
কোনো ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকলে পাশের ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে হিসাব সহকারী থাকলে তিনি নিয়মিত কাজ সম্পাদন করতে পারেন, কিন্তু এজন্য অবশ্যই দাপ্তরিক চিঠি থাকতে হবে। মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, শূন্য পদে দায়িত্ব দিতে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে সেটি লিখিত আদেশের মাধ্যমে হতে হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরিদুল হক মিয়া কোনো ধরনের লিখিত অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা নিয়মবহির্ভূত। এতে করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, তিনি নিজেকে সচিব পরিচয় দিয়ে সব ধরনের কাজ করছেন। কিন্তু আমরা কখনো কোনো দাপ্তরিক আদেশ দেখিনি। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
আরেকজন অভিযোগ করে বলেন,
প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকার সুযোগে তিনি নিজেই দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এভাবে দায়িত্ব পালন করা ঠিক না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন ছাড়া এভাবে দায়িত্ব পালন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এতে সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
Views: 6





















