মতলব উত্তরে ড্রেজার চালাতে চাঁদা দাবির অভিযোগ, পাইপ কেটে চুরি

সফিকুল ইসলাম রানা : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ড্রেজার চালানোর নামে চাঁদা দাবি না মানায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ড্রেজারে হামলা, পাইপ কেটে চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন মেম্বার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় তার ব্যক্তিমালিকানাধীন বৈধ ভাবে বাল্কহেড থেকে আনলোড ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু ভরাটের কাজ করে আসছেন। অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেলোয়ার হোসেন জানান, গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) তার কর্মস্থলে এসে জাকির হোসেন ও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা বলে, এলাকায় ড্রেজার চালাতে হলে নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার ড্রেজারের মেশিন ও পাইপ কেটে নষ্ট করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।
এরপর গত ১২ জানুয়ারি রাত থেকে ভোরের মধ্যে দক্ষিণ উদ্দমদী এলাকায় শাহজালাল গাজীর বাড়ি সংলগ্ন স্থানে রাখা তার ড্রেজারের চারটি পাইপ কেটে ফেলে এবং ১৫টি পাইপ চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে তিনি মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী চক্র ড্রেজার ও নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। দেলোয়ার হোসেনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ড্রেজার মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
দেলোয়ার হোসেন মেম্বার বলেন, আমি কোনো অবৈধ কাজ করি না। নিয়ম মেনেই ড্রেজার চালাই। কিন্তু একটি চক্র জোর করে চাঁদা আদায় করতে চায়। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমার ড্রেজারের পাইপ কেটে চুরি করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মতলব উত্তর থানার এএসআই মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা হয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, চাঁদাবাজি ও ভাঙচুরের অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
![]()





















