ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ : পরিবারকে মারধর করে স্বর্ণালঙ্কার লুট, ১৫ দিনেও মেলেনি অগ্রগতি

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গভীর রাতে এক প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি ও মারধর করে স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় অস্ত্রসহ ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের সাইসাঙ্গা গ্রামের সর্দার বাড়ির সৌদি প্রবাসী এরশাদ উল্যার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এর আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বাড়ির পাশ থেকে ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া একটি বড় আকারের সেলাই রেঞ্জ উদ্ধার করে পুলিশ বলে জানিয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, “আমি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকি। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত আড়াইটার দিকে ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার বড় মেয়েকে মারধর শুরু করে। ডাকাতরা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। আমরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। এর আগেও আমাদের বাড়িতে চুরি হয়েছিল। বর্তমানে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।”

ডাকাতদের হামলায় আহত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমেনা বেগম বলেন, “ডাকাতরা আমার গলায় দা ধরে। আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলে আমাকে মারধর করে। তারা আমার ছোট ভাই-বোনদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়।”

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মাওলানা জয়নাল আবেদীন ও হাজী মোহাম্মদ কাশিম বলেন, “এর আগেও আমাদের বাড়িতে চুরি হয়েছে। এবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মসজিদে মাইকিং করেও ডাকাতদের আটক করা সম্ভব হয়নি। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম হোসেন বলেন, “কয়েক মাস আগে রাতের বেলায় আমাদের এলাকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। তখন মসজিদে মাইকিং করা হয়েছিল। পরে ওই মসজিদের মাইকের মেশিনও চুরি হয়। কয়েকদিন আগে এরশাদ কাকার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মাইকিং করা হলেও কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত কয়েক মাসে এলাকায় একাধিক চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এদিকে, ডাকাতির ঘটনায় থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এসআই রাকিবুল হাসানকে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.

Views: 3

শেয়ার করুন