শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও সাহিত্যচর্চায় অনন্য হাজীগঞ্জের কৃতী সন্তান হারুন অর রশিদ

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম:
শিক্ষকতা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় জ্ঞানচর্চা, প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সমাজসচেতনতার মাধ্যমে একজন শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস। এমনই বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. হারুন অর রশিদ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রিধারী এই শিক্ষক দীর্ঘ ২১ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত রয়েছেন।

চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মো. হারুন অর রশিদ। হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবেও প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে অবস্থানের নৈকট্যের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার কারণে তিনি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচিত একটি মুখ।

প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক হলেও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আগ্রহ ও দক্ষতার পরিধি বিস্তৃত। জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বাংলা সাহিত্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞানচর্চা তাঁকে একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হিসেবে পরিচিত করেছে।

শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি সহজ-সরল, নম্র, নিরহংকার ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। গতানুগতিক মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও হাতে-কলমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ফলে তাঁর পাঠদানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষামুখী প্রস্তুতির পরিবর্তে বিষয়কে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বোঝার সুযোগ পায়।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে প্রভাষক হারুন অর রশিদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাঁর উদ্যোগে ২০১১ সালে কলেজে প্রথম মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের সূচনা হয়।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে এইচএসটিটিআই থেকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস প্রেজেন্টেশনের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে নিজ উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ইনহাউজ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় উৎসাহিত ও দক্ষ করে তোলেন।

শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, কলেজের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কম্পিউটারাইজড অফিস ম্যানেজমেন্ট, ২০১১ সাল থেকে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত ডিগ্রি শ্রেণির ভর্তি ও অনলাইন ফরম পূরণের কাজে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কলেজ ছাত্রাবাসের সুপারিন্টেন্ডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

শিক্ষকতার বাইরে মো. হারুন অর রশিদের রয়েছে কবি ও লেখক হিসেবে আলাদা পরিচয়। তাঁর লেখায় সমাজের অবহেলিত, শোষিত, বঞ্চিত ও নিগৃহীত মানুষের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে তাঁর বিভিন্ন লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বিপ্লবী উন্মাদ’, ‘আত্মদর্শন’, ‘বিপ্লবী জাগরণ’ ও ‘বিপ্লবী অভিযান’। সমাজসচেতন লেখনির কারণে তিনি ‘বিপ্লবী কবি’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।

দীর্ঘ ২১ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনো শিক্ষাগুরু, কখনো অভিভাবক, আবার কখনো শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে পাশে থেকেছেন। তাঁর স্নেহ, পরামর্শ ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থী নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

শিক্ষকতা, প্রযুক্তি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও সাহিত্যচর্চার সমন্বয়ে মো. হারুন অর রশিদের কর্মজীবনকে একটি বহুমাত্রিক পথচলা হিসেবে দেখছেন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

একজন প্রাণিবিদ্যার শিক্ষক হয়েও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার, প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা এবং সমাজসচেতন সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি করেছেন। তাঁর জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

শিক্ষকতা ও সাহিত্যসাধনায় মো. হারুন অর রশিদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ পরিবার।

প্রকাশিত :  ‍শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Views: 9

শেয়ার করুন