মতলব উত্তরে চুরির আতঙ্ক; ২০ দিনে ৩ সাংবাদিকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি

মতলব প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ২০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিনজন সাংবাদিকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকার প্রতিনিধি জহিরুল হাসান মিন্টুর মালিকানাধীন ষাটনল কনু মার্কেটের একটি কনফেকশনারি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা চোরেরা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
এর আগে চাঁদপুরের মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক এবং দৈনিক চাঁদপুর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম রানার ভাড়া বাসায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে চোরেরা ছেংগারচর পৌর ভবন সংলগ্ন মিন্টু ভবনের ৪র্থ তলার দক্ষিণ পাশের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে চুরি সংঘটিত করে।
ঘটনার সময় তিনি কাজের প্রয়োজনে বাসার বাইরে ছিলেন এবং তার স্ত্রী বাসার সাধারণ লক দিয়ে নিচে নামেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে নগদ ৩৯ হাজার টাকা এবং কাঠের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ার ভেঙে ৫ ভরি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার চুরি করে নেয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে চোরাই মালামালের মূল্য প্রায় ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর সাংবাদিক সফিকুল ইসলামের স্ত্রী বাসায় ফিরে এসে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম দ্রুত বাসায় ফিরে এসে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন ও থানায় মামলা দায়ের করেন।
এরও আগে গত ৩০ ডিসেম্বর দৈনিক সংবাদ সারাবেলা পত্রিকার মতলব প্রতিনিধি ও মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক তুহিন ফয়েজের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় যান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান এখলাছপুর ইউনিয়নের এখলাসপুর (কালীতলা) গ্রামের তার বাড়ির দরজার তালা ভাঙা, ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে একটি ক্যামেরা, কিছু নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি হয়ে গেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের বাড়িতে চুরির পাশাপাশি উপজেলায় সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও সম্পদও নিরাপদ নয়। শনিবার ষাটনলের হাজী মো. কামাল হোসেনের বাড়িতে ভবনের দরজা ভেঙ্গে চুরি, গত শুক্রবার ছেংগারচরে আরও একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগে দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের সাদেক মালের বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি, দুলালকান্দি গ্রামে একটি অটোরিকশা চুরি এবং একলাশপুর গ্রামে একই রাতে তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতিনিয়ত এমন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পরপর চুরির ঘটনায় মতলব উত্তর উপজেলায় নিরাপত্তা জোরদার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ।
মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক সাংবাদিকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন, অথচ তারাই আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ফাঁকা বাসা রেখে কোথাও গেলে মূল্যবান সম্পদ নিরাপদ স্থানে রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চুরির প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০ দিনের মধ্যে তিনজন সাংবাদিকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। চোরচক্র শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
![]()





















