শাহরাস্তিতে ছাত্রী শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক শিক্ষকের পক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারকে জামায়াত আমীরের হুমকির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মামলার পর ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা, হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ও ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পানচাইল (শান্তিনগর) গ্রামের মো. মোস্তফার স্ত্রী শাহিনা বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে চিতোষী সুলতানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে (অভিযোগকারীর কন্যাসহ) ওই মাদ্রাসার বাংলা শিক্ষক আব্দুল মালেক কু-প্রস্তাব দেন এবং তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। ওই সময় এক শিক্ষার্থী চিৎকার করতে চাইলে শিক্ষক আব্দুল মালেক তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জানাতে গেলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগীদের ধমক দেন। কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ গত রোববার অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে কিছু ব্যক্তি তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি গোষ্ঠী ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর চরিত্রহননের চেষ্টা করে বিষয়টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানের জন্য অপর ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের ‘চরিত্রগত ত্রুটি’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসার প্রভাবশালী অভিভাবক সদস্য, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আমিনুল ইসলাম তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের না জানিয়ে কেন আইনের আশ্রয় নেওয়া হলো, এর ফল ভালো হবে না’—এমন হুমকি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

Views: 0

শেয়ার করুন