মতলব উত্তরে ১১ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল: তিন বছরেও সুবিধা পাচ্ছে না পৌরবাসী

সফিকুল ইসলাম রানা : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, উচ্চ জলাধার ও ৪৫০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধনের তিন বছর পার হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বাধ্য হয়ই টিউবলের উপর নির্ভরশীল পৌর এলাকার জনগণ।
জানা যায়, ২০১৯ সালে সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪’শ ৭৫টি পরিবারের (হোল্ডিং) মধ্যে মাত্র ৩২৮টি পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৩ শতাংশ এলাকায় সীমিত আকারে সরবরাহ চালু আছে।
চাঁদপুর জনসাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৪৫০ ঘন মিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ জলাধার ছেংগারচর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর থেকেই রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে চরম ঘাটতি। একজন অপারেটর ও একজন নাইটগার্ড দিয়েই কোনরকম চলছে এর কার্যক্রম।
উদ্বোধনের পর থেকেই পাইপলাইনের নানা ত্রুটি, লিকেজ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানি সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় পাইপলাইন থাকলেও পানি পৌঁছায় না। আবার কিছু এলাকায় একদিন পানি এলে পরের দিন থাকে না।
পৌর এলাকার ওঠারচর গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান মুরাদুজ্জামান বলেন, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১১ কোটি টাকা খরচ করে এত বড় প্রকল্প হলো, কিন্তু আমরা এখনো টিউবওয়েলের পানিতেই নির্ভরশীল। মাঝে মাঝে শুনি পানি আসবে, কিন্তু আমাদের এলাকায় তো কোনো পানিই আসে না।
দেওয়ানজীকান্দি এলাকার গৃহিণী রোজিনা বেগম জানান, টাকা খরচ করে পানি লাইন নিয়েছি, কিন্তু মাসে গড়ে ১৫ দিনের বেশি পানি পাওয়া যায় না। পানির মধ্যে মাঝেমধ্যে শ্যাওলা পাওয়া যায়।
পৌর এলাকার আরেক বাসিন্দা নূরুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, অফিসে গেলে বলে মেরামত চলছে। তিন বছর ধরে শুধু মেরামতই চলছে, কিন্তু সমাধান হচ্ছে না। মাস শেষে ২০০ টাকা পানির বিল পরিশোধ করতে হয়।
পৌর এলাকার সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করল, তা যদি জনগণের কাজে না আসে তাহলে এ অর্থের কোনো মূল্যই থাকলো না। দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং অবহেলার কারণেই এই অবস্থা।
ছেংগারচরের প্রায় ৬০হাজার মানুষ এখনো নিরাপদ পানি সুবিধার বাইরে। তারা টিউবওয়েল, বেসরকারি বোতলজাত পানি কিংবা খাল-বিলের পানির ওপর নির্ভর করেই দৈনন্দিন চাহিদা মেটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ব্যয়বহুল এই প্রকল্প পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে এবং কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় হবে।
ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগারের দায়িত্বে থাকা অপারেটর মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে পানি সরবরাহের চেষ্টা করি। কিন্তু লাইন লিকেজ এবং মেশিনে কিছু সমস্যা থাকায় পুরোপুরি পানি দেওয়া যাচ্ছে না। পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ছেংগারচর পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, পানি সরবরাহ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্বোধনের পর থেকে আংশিক কার্যক্রম চালু আছে। তবে লিকেজ, যান্ত্রিক সমস্যা এবং জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। ইতোমধ্যে কিছু লাইনের মেরামত শুরু হয়েছে। শিগগিরই পৌরবাসী প্রত্যাশিত পানি সুবিধা পাবেন।
বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫
Views: 0




















