শিক্ষক সোলায়মানের বিরুদ্ধে পর-নারীঘটিত সম্পর্ক, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

মতলব উত্তর প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ নাউরী গ্রামের জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সোলায়মানের বিরুদ্ধে পরনারীঘটিত সম্পর্ক, পারিবারিক অশান্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও চাঁদাবাজিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ নাউরী গ্রামের বাদশা প্রধানের ছেলে সোলায়মান বর্তমানে জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার মতো সম্মানজনক পেশায় থেকেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবেশী দুবাইপ্রবাসী আল-আমিনের স্ত্রী ঋতু আক্তারকে (২৩) কেন্দ্র করে সোলায়মানের

বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারীকে তার বাড়িতে রাখার অভিযোগ ওঠে। এতে আল-আমিনের আট বছর বয়সী সন্তান মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ নাউরীর পৈতৃক ভিটা ছেড়ে পাশের ছোট হলদিয়া এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

অন্যদিকে, সোলায়মানের নিজ সংসারেও এ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তার স্ত্রী সেতু আক্তার (৩০) স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। স্বামীর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি ১৫ বছর বয়সী মেয়ে শিপা আক্তার ও সাত বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া সোলায়মানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ২০১৮ সালে বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. জালাল উদ্দীনের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একজন শিক্ষক হিসেবে সোলায়মানের বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকসহ জেলা ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সোলায়মানের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা বক্তব্য না দিয়ে বলেন, আপনারা সাংবাদিক, নিউজ করা আপনাদের কাজ। আপনি এই নিউজ করেন। তবে এই নিউজে আমার কিছুই হবে না।

প্রকাশিত :  ‍বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

Views: 4

শেয়ার করুন