হাজীগঞ্জে তৃণমূল বিএনপির নেতা রহমত উল্লাহর আক্ষেপ, দীর্ঘদিনের ত্যাগের পরও মিলেনি দলীয় মূল্যায়ন

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুবদল সভাপতি মো. রহমত উল্লাহ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই তৃণমূল নেতা দলীয় প্রতিকূল সময়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে দাবি করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া এবং হামলার শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি যথাযথ দলীয় মূল্যায়ন না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিলওয়াই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী তপদার বাড়ির সন্তান রহমত উল্লাহর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য এমএ মতিনের হাত ধরে বলে তিনি জানান। তবে তার ভাষ্য, পারিবারিকভাবেই তাদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত রহমত উল্লাহ বর্তমানে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বলে জানা গেছে। একসময় ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা এই নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
রহমত উল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের পক্ষে কাজ করেছিলেন। নির্বাচনের পরদিন রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
রহমত উল্লাহর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে থাকা এবং বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা করার পরও তিনি প্রত্যাশিত সাংগঠনিক স্বীকৃতি পাননি। তার মতে, দলের সুসময়ে অনেকেই সক্রিয় হলেও দুঃসময়ে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
তার সমর্থকদের ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং কঠিন সময়ে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীদের অবদান বিবেচনায় নেওয়া হলে সাংগঠনিক ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রহমত উল্লাহ স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত। পরিচিতজনদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিলওয়াই বাইতুল আমান জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভূমিকা ও অবদান গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রতিকূল সময়ে সক্রিয় থাকা এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা দরকার।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক যুবদল সভাপতি মো. রহমত উল্লাহর আক্ষেপের মধ্য দিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তৃণমূল নেতাদের স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তার সমর্থকদের প্রত্যাশা, দলের সংশ্লিষ্ট নেতারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অবদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.
Views: 2






















