মতলব উত্তরে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ, বিপন্ন কবিরাজি চিকিৎসা

সফিকুল ইসলাম রানা, মতলব প্রতিনিধি : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক সময় ভেষজ উদ্ভিদের ছিল বিপুল সমাহার। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, পুকুরপাড়, এমনকি পতিত জমিতেও জন্মাতো নানা প্রজাতির ভেষজ গাছগাছড়া। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ কবিরাজি চিকিৎসা ব্যবস্থায়ও।
বিনন্দপুর গ্রামের প্রবীণ কবিরাজ আব্দুল হান্নান মিয়াজী বলেন, “একসময় ভোরবেলা ঝোপে গিয়ে প্রয়োজনীয় গাছ তুলে আনতাম। এখন ৪-৫টা গাছ ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। রোগী আসে, কিন্তু ওষুধ বানাতে উপাদান মেলে না। তাই অনেকে পেশা ছেড়ে দিচ্ছে।”
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘মতলবের মাটি ও মানুষ’ এর পরিচালক শামীম খান বলেন, “আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু বইয়ে পড়ে জানবে এসব ভেষজ গাছের কথা। তাই আমরা স্কুল, কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনার ও গ্রামে গ্রামে গাছ লাগানোর কর্মসূচি চালু করব।”
ছেংগারচর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, “আমাদের পাঠ্যবইয়ে বাসক, তুলসী, চন্দনের কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা সেগুলো দেখি না। যদি স্কুলে এসব গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে শিখে রাখতাম।”
বদরপুর আদমিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক প্রফেসর আলমাছ মিয়া বলেন, “আগে আমাদের আশপাশের গাছ দিয়েই সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা, চর্মরোগ সারানো যেতো। এখন ওষুধ কিনতেই শহরে ছুটতে হয়। তরুণরা এসব গাছ চেনেই না। এটা এক ধরনের সাংস্কৃতিক ক্ষয়।”
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ বলেন, “ভেষজ উদ্ভিদ আমাদের কৃষি ও চিকিৎসা ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অতি নগরায়ণ, অজ্ঞানতা ও অপরিকল্পিত গাছ কাটা এ উদ্ভিদগুলোকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিচ্ছে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও চারা বিতরণের মাধ্যমে এ ধারা রোধ করা সম্ভব।”
ছেংগারচর সরকারি কলেজের অধ্যাপক আবুল বাসার দেওয়ান বলেন, “ভেষজ উদ্ভিদ শুধু ওষুধ নয়, এটি একটি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যের অংশ। বিভিন্ন গবেষণাগারে জানাজায় যেসব অঞ্চলে ভেষজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়েছে, সেখানে রোগবালাই বেড়েছে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।”
স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, “পঞ্চাশের দশকে আমাদের গ্রামে কানে শোনা রোগ হলে আকন্দ পাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া দিয়ে চিকিৎসা হতো। আজ এসব শুধু স্মৃতি। বর্তমান প্রজন্ম জানেই না ভেষজ উদ্ভিদের শক্তি কতটা ছিল।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পর্যায়ে নীতিগত উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা এবং স্কুল-কলেজভিত্তিক গাছ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করলে আবারও ফিরে আসতে পারে ভেষজ ঐতিহ্য। সেইসাথে টিকে থাকবে কবিরাজি চিকিৎসা এবং গ্রামীণ জীবনের এক অমূল্য সম্পদ।
সোম বার, ১২ মে ২০২৫
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
Views: 0

















