আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ, ফরিদগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ভবন নির্মাণ

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো. আবুল বাশার পাটওয়ারী ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এদিকে প্রবাসফেরত অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন মামলার বাদী হাছিনা বেগম। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিপক্ষরা দলবল নিয়ে দিনরাত ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হর্নি দুর্গাপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এ বিরোধের কথা জানান। এ সময় তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির বোরহান পাটওয়ারীর স্ত্রী হাছিনা বেগম এবং প্রতিপক্ষ মো. আবুল বাশার পাটওয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্রয়সূত্রে ১২৭ নম্বর হর্নি মৌজার ৭৪১ নম্বর খতিয়ানের ৮৩৯২ নম্বর দাগে সাত শতক জমির মালিক হন। পরবর্তী সময়ে হাছিনা বেগম প্রতিবেশীদের চলাচলের পথ রেখে নিজের মালিকানাধীন জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আবুল বাশার পাটওয়ারীর মালিকানাধীন অংশে আগে একটি কাঁচা ঘর ছিল। সম্প্রতি সেই ঘর ভেঙে চলাচলের পথ বন্ধ করে পাকা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে হাছিনা বেগম ও তাঁর স্বজনরা বাধা দিলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে হাছিনা বেগম চাঁদপুরের বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে ৭৭৪/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নালিশি সম্পত্তির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়কে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে।
বাদীর অভিযোগ

হাছিনা বেগম বলেন, “আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকার হাসপাতালে রয়েছি। বাড়িতে আমাদের কেউ নেই। এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নালিশি সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। আমরা এলাকায় অসহায় অবস্থায় আছি। এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”

বিবাদীপক্ষের বক্তব্য
ঘটনাস্থলে মো. আবুল বাশার পাটওয়ারীকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তাঁর ছেলে মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমরা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ করছি। প্রতিপক্ষ অকারণে আমাদের হয়রানি করছে। আমাদের সম্পত্তির ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে চলা সবার দায়িত্ব। বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে সেখানে কীভাবে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. বাবুল বলেন, হাছিনা বেগম আদালতে মামলা করেছেন এবং আবুল বাশার পাটওয়ারী আদালতে যাওয়া-আসা করছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁদের বিস্তারিত জানা নেই।

প্রশাসনের বক্তব্য

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিনে তদন্ত শেষে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল আমিন বলেন, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মেনে চলার জন্য উভয় পক্ষকে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত অবস্থা, আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিধি এবং নির্মাণকাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

Views: 10

শেয়ার করুন