মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা

সফিকুল ইসলাম রানা : আমন ধান ঘরে তোলার পরপরই বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে আগাম বীজতলা তৈরি ও বীজ বপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কৃষকরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত এই উপজেলার মাঠজুড়ে এখন বোরো ধানের বীজতলা তৈরির ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।
শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে চারাকে রক্ষা করতে কৃষকরা আগেভাগেই বোরো ধানের বীজতলা তৈরি ও বপণের কাজ শুরু করেছেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় হাট-বাজার থেকে উচ্চফলনশীল ও স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন উফশি ও হাইব্রিড জাতের ধান বীজ সংগ্রহ করে নিবিড় পরিচর্যায় মনোযোগ দিয়েছেন তারা। সঠিক সময়ে শেষ প্রকল্পের পানি পেলে এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ বোরো মৌসুমে বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০৫ হেক্টর, যা ইতোমধ্যে অতিক্রম করে ৫৩৪ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে।
জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পটি ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে সম্পন্ন হয়। মতলব উত্তর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নের ১৭ হাজার ৫৮৪ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। সেচ ও নিষ্কাশন সুবিধার মাধ্যমে ধান উৎপাদন বৃদ্ধি বিশেষ করে বোরো ধান উৎপাদনই ছিল এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এখন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে কেউ বীজতলায় সেচ দিচ্ছেন, কেউ লাঙ্গল কিংবা কোদাল দিয়ে চাষ করছেন, আবার কেউ মই দিয়ে জমি সমান করছেন। অনেক কৃষক অঙ্কুরিত ধান বীজ ছিটিয়ে বপণ করছেন। সাধারণত নীচু জমি ও খালপাড় সংলগ্ন জমিগুলো বীজতলার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাহিকান্দি গ্রামের কৃষক ওয়ালীউল্ল্যা মিয়াজী বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব কৃষিতেও পড়েছে। সার, ডিজেল, কীটনাশকের দাম বেড়েছে, বেড়েছে কৃষি শ্রমিক ও হালচাষের মজুরি। ফলে গত বছরের তুলনায় রোপণ থেকে শুরু করে ধান ঘরে তোলা পর্যন্ত সবখানেই অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে।
ছেংগারচর পৌর এলাকার জোরখালী গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, আমি ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের জন্য আগেই বীজতলা তৈরি করে বীজ বপণ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারা ভালো হবে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দীন বলেন, আগাম বীজতলা করায় সময়মতো রোপণ করা যাবে। তবে খরচ বাড়ায় আমাদের দুশ্চিন্তাও বেড়েছে। সময় মতো সেচ প্রকল্পের পানি পেলে ভালো ফলন হবে।
ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের কৃষক ওয়াজকুরনী মোল্লা বলেন, সেচ সুবিধা থাকায় বোরো আবাদে আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু সরকারিভাবে সার ও ডিজেলের দাম আরও সহনীয় হলে কৃষক উপকৃত হতেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, চলতি মৌসুমে মতলব উত্তরে বোরো ধানের বীজতলা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। কৃষকদের আগাম বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি এড়ানো যায়। রোগবালাই দমনে ও উন্নত ফলনের জন্য নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরো মৌসুমে ভালো উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে।
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
Views: 0





















