শাহরাস্তিতে সরকারি খাল দখলের মহোৎসব! একাধিক অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টুঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সরকারি খাল দখল করে স্থায়ী ইমারত নির্মাণের মহোৎসবে নেমেছে এক শ্রেণীর অসাধু দখলদার। প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় দখলদারিত্বের কারণে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত এসব গুরুত্বপূর্ণ খাল দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছ কৃষি উৎপাদন ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের পক্ষে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ করেও অদ্যাবধি কোনো প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, উপজেলার নিজমেহার, সূচীপাড়া, বিজয়পুর, রঘুরামপুর, দশনাপাড়া, নরিংপুর ও চিতোষী এলাকা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি খাল ভরাট করে দোকানঘর, বসতবাড়ি ও ভবন নির্মাণ হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সেচ কাজ ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত খালগুলো প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে ।

রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক সদস্য মোঃ শাহ ইমরান দিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জনগণ ও এলাকার স্বার্থে বিগত ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। অদ্যাবধি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার চোখে পড়েনি। দখলদাররা আগের মতোই তাদের দখল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিগত দিনে আরো বেশ কয়েকজন একই ভাবে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।

অপরদিকে বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লায়ন মোহাম্মদ হোসেন রানা জানান, বিজয়পুর থেকে নাহারা গ্রামের সংযোগ পর্যন্ত খাল ভরাটের বিষয়ে ১৬ জুন ২০২৫ ইং জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ করি কিন্তু তাতেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের আশ্বাসে নয় জলাবদ্ধতার কবল থেকে রক্ষা ও কৃষি উৎপাদনের কথা চিন্তা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খালগুলো পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এতে খালগুলো দখলমুক্ত হয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে কৃষক ও সাধারণ মানুষ।

প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার 

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

Views: 11

শেয়ার করুন