সমকামী নারী ও পুরুষদের চেনার উপায়

মিজানুর রহমান রানা : সমকামী ( homosexual) নারী ও পুরুষদের চেনার কিছু উপায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো। যেন তাদের মা-বাবা বা পরিবার পরিজন তাদের সংশোধন করতে পারেন। তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন। যে সব সমকামী নারী পুরুষ উভয়কে পছন্দ করে তাদের বাই (Bi) বলা হয়। মেয়েদের বলা হয় লেসবিয়ান। ঢাকায় কিছু জায়গা আছে যেখানে সন্ধ্যার পর সমকামীরা জড়ো হয় তাদের বিছানার সঙ্গী খুঁজতে।
চ্যাটিং এর বদৌলতে এখন সমকামীরা ঘরে বসে অন্য সমকামীর সাথে সহজেই পরিচিত হতে পারছে। ইয়াহু চ্যাটিং এর বাংলাদেশ রুমে গেলে দেখবেন boy2boy, boy4boy, man2man, gay এ রকম অনেক নাম। এরা এইসব নিক নিয়ে বসে থাকে অন্য সমকামীকে খোঁজার জন্য। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে সমকামীদের সার্কেলও সৃষ্টি হয়েছে।

সমকামীদের ২/৩টা ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ আছে। তারা ডিসকো নাইট, পিকনিক আয়োজন করে, গেট টুগেদার করে। সমকামীদের মধ্যেও ভালোবাসাটা প্রবল। একজন মেয়ের অন্য মেয়ের প্রতি ফিলিংস এতটাই প্রবল যে, না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন না।
সমকামী নারীদের চেনার উপায় তুলে ধরা হলো-
সমকামী নারীদের মেজাজ থাকবে তিক্ত, সামান্যতেই রেগে যাবে। সব সময় তাদের নাকের উপর রাগের চিহ্ন ফুটে থাকবে, চেহারা থাকবে কুঞ্চিত, চোখের নিচে কালো দাগ, চেহারা ফ্যাকাশে, চেহারার মাঝে খারাপ চাপ ফুটে উঠবে।

চেহারা সব সময় শুকনো শুকনো মনে হবে, চেহারার উজ্জলতা নিস্তেজ এবং চোখদ্বয় কোটরাগত হবে, চোখের চারপাশে চিন্তা ও টেনশনের ছাপ প্রস্ফুটিত হবে। এসব নারীর সব সময় মাথা ব্যাথা থাকে, কথার আওয়াজে কোনো ভারত্বভাব থাকবে না। মাথার চুল অতি অল্প বয়সেই ঝরতে থাকবে।

অতি অল্প বয়সেই চুল সাদা হতে থাকবে। ক্ষুধা হ্রাস পাবে। আবার যা খাবে, তাও সহজে হজম হবে না। সব সময় বুক ধড়ফড় করতে থাকবে। আবার অনেকের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। যদি ঋতুস্রাব আসেও তবু তা পরিমাণে একেবারেই সামান্য। ঋতুস্রাবের রক্ত থাকবে কালো রঙয়ের দিকে ধাবমান এবং তা হবে খুবই দুর্গন্ধ যুক্ত।
পিঠ এবং রানেও ব্যাথা অনুভব হবে। জরায়ুর ভিতরে এবং লজ্জাস্থানের বহিরাংশ ফুলে যাবে। জরায়ু থেকে ক্রমাগত রক্ত পড়তেই থাকবে। লজ্জাস্থানে জ্বলন রোগ দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে লেখা সমকামী নারীদের অপদস্থ করার উদ্দেশ্য নয়। এবার সমকামী পুরুষদের চেনার কিছু উপায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।
সমকামী মানুষ আমাদের আশেপাশেই রয়েছেন। আমাদের বন্ধু-বান্ধবীদের মধ্যেও রয়েছেন কিছু সমকামী মানুষ। লোকলজ্জার ভয়ে তাঁরা অনেক সময়েই নিজেদের যৌন পছন্দের কথা বলে উঠতে পারেন না। যতক্ষণ না তাঁরা নিজেদের মুখে নিজেদের সমকামিত্বের কথা স্বীকার করছেন ততক্ষণ পর্য্ন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিৎ হওয়ার উপায় নেই।
এখানে রইল কিছু সাধারণ লক্ষণের কথা যা থেকে বোঝা যেতে পারে কোনও মানুষ সমকামী কি না। তবে প্রথমেই বলে নেওয়া ভাল, এগুলো লক্ষণ মাত্র। এই লক্ষণ মিলিয়ে কোনও মানুষের যৌন পছন্দ সম্পর্কে কোনও নিশ্চিৎ সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
• কীভাবে বুঝবেন কোনও মেয়ে সমকামী কি না:
১. সমকামী মেয়েদের সাধারণভাবে বিশিষ্ট ফ্যাশান সেন্স থাকে। পুরুষদের মতো পোশাক-আশাক পরা এদের স্বভাব। তবে অনেক সময়ে একেবারে নারীসুলভ উত্তেজক পোশাকেও এদের দেখা যায়।
২. পুরুষদের মতো একেবারে ছোট করে কাটা চুলের স্টাইল এদের পছন্দ।
৩. চলনে-বলনে টিপিকাল ‘মেয়েলি’স্বভাব এদের মধ্যে একটু কমই থাকে। বসার সময়ে সাধারণত দুই হাঁটু ফাঁক করে বসা এদের স্বভাব। হাঁটার ভঙ্গিও অনেকটা পুরুষদের মতোই হয়।
৪. মেয়েদের মতো হাতের আঙুলে বড় নখ সাধারণত এরা রাখে না।
৫. কথা বলার সময়ে ‘গে রাইটস’, সমকামী বিবাহ এইসব বিষয়ে আলোচনা করতে এরা ভালবাসে।
• কীভাবে বুঝবেন কোনও ছেলে সমকামী কি না:
১. সমকামী পুরুষরা সাধারণত সাজগোজ করতে অনেকটা সময় নেয়।
২. সমকামী বা বাইসেক্সুয়াল বা রূপান্তরকামী সেলিব্রিটিরা এঁদের আদর্শ হন।
৩. মেয়েদের জন্য পত্রিকা বা মেয়েদের জন্য সম্প্রচারিত টিভি প্রোগ্রাম এদের পছন্দ।
৪. রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময়ে অন্য ছেলেদের ওপর এদের নজর থাকে বেশি।
৫. কোনও পাবলিক টয়লেটে যেতে এরা সাধারণত দ্বিধা বোধ করে। সূত্র : ইন্টারানেট।
সমকামিতার আড়ালে প্রতারণার ছায়া—বাংলাদেশে এক নতুন সামাজিক সংকট?
বাংলাদেশে সমকামিতা একটি বিতর্কিত ও সংবেদনশীল বিষয়। এটি একদিকে ব্যক্তিগত পরিচয় ও মানবাধিকার সংক্রান্ত, অন্যদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে “সমকামিতার পরিচয়” ব্যবহার করে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ লুট, ব্ল্যাকমেইল এবং মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।
এই ফিচারে আমরা অনুসন্ধান করব—সমকামিতার নামে কীভাবে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রতারণার জাল বিস্তার করছে, এবং এর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব কী।
পরিচয়ের আড়ালে প্রতারণা: কৌশল ও বাস্তবতা
– অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রলোভন:
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, বা ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি “সমকামী” পরিচয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। তারা প্রথমে আবেগী কথাবার্তা, সহানুভূতির ছলচাতুরি দিয়ে ভিকটিমকে মানসিকভাবে জড়িয়ে ফেলে।
– গোপনীয়তা ও ভয়ভীতি:
একবার সম্পর্ক গড়ে উঠলে, তারা ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা কথোপকথন সংগ্রহ করে। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়—“তোমার পরিবার বা কর্মস্থলে জানিয়ে দেব” বলে ভয় দেখানো হয়।
– অর্থ লুটের কৌশল:
ভিকটিমকে “সমাজে সম্মান রক্ষা” বা “তথ্য গোপন রাখার” বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। অনেকে মানসিক চাপে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তেও পৌঁছায়।
মনস্তত্ত্ব ও দুর্বলতার সুযোগ
– একাকীত্ব ও আত্মপরিচয়ের সংকট:
অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের যৌন পরিচয় নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা “সহানুভূতির মুখোশ” পরে তাদের কাছে পৌঁছায়।
– সমাজের নীরবতা ও ভয়:
বাংলাদেশে সমকামিতা অপরাধ। এ বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় না। ফলে প্রতারিত হয়ে ভিকটিমরা ভয়, লজ্জা বা সামাজিক অপমানের ভয়ে পুলিশের কাছে যেতে সাহস পায় না।
সামাজিক প্রভাব ও নৈতিক সংকট
– আস্থা ও সম্পর্কের ভাঙন:
এই ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং সমাজে আস্থার সংকট তৈরি করে। মানুষ আর কাউকে বিশ্বাস করতে ভয় পায়।
– সমকামী জনগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব:
কিছু প্রতারকের কারণে পুরো LGBTQ+ সম্প্রদায়কে সন্দেহের চোখে দেখা হয়, যা তাদের নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করে তোলে।
আইন ও প্রতিকার: কী করা উচিত?
– সাইবার অপরাধ দমন:
এই ধরনের প্রতারণা সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে। ভিকটিমদের সাহস করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যেতে উৎসাহিত করা উচিত।
-সচেতনতা বৃদ্ধি:
স্কুল, কলেজ, ও সামাজিক মাধ্যমে যৌন পরিচয় এবং নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
– মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং:
ভিকটিমদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, অপরাধ এবং কাউন্সেলিং সেবা চালু করা দরকার।
বাংলাদেশে সমকামিতা একটি অপরাধ। কিন্তু তার আড়ালে প্রতারণাও আরও একটি সামাজিক অপরাধ। এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে হবে। প্রতারকদের মুখোশ উন্মোচন করতে হলে সমাজকে সাহসী, সহানুভূতিশীল এবং তথ্যনির্ভর হতে হবে। সমকামীদের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে—কারণ প্রতারণা কোনো পরিচয়ের বিষয় নয়, এটি একটি অপরাধ।
বুধবার, ১৩ আগস্ট ২০২৫
২৮ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
২৮ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Views: 46



















