হাজীগঞ্জ বাজারের গণসৌচাগারের বেহাল দশায় পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ হয়ে পড়ে আছে

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: চাঁদপুর জেলার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জ বাজারে সুইপার ড্রেনেজ লাইনের ময়লা আবর্জনা ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবস্থিত চাঁদপুর জেলা পরিষদ ও হাজীগঞ্জ পৌরসভার নির্মিত পৌর গণসৌচাগারের চার পাশে রাখার কারণে বেহাল দশা হয়ে পড়ে আছে। জন গুরুত্বপূর্ণ হাজীগঞ্জ বাজারের ময়লা আবর্জনা গণসৌচাগারের চারপাশে রাখার কারণে গণসৌচাগার ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও পথচারী ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। গণসৌচাগারে আসা যাওয়া পথিকের পথে আবর্জনা রাখার কারণে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী, ব্যবসায়ী এবং আশেপাশের লোকজন।
দৈনন্দিন এই পথের পাশ দিয়ে আসা-যাওয়া লোকজন নোংরা ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার কারণে হাঁটা চলায় বিঘ্ন ঘটছে। ডাকাতিয়া নদীর পাশে এভাবে যন্ত্র-তন্ত্রের ময়লা আবর্জনা না ফেলার জন্য নির্দেশনা থাকলেও কে মানছে কার বুলি। দিনের পর দিন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে লোকালয়ে পথচারী ও ব্যবসায়ীগন। দেখা যায় শুধু সুইপার নয় দোকানিরাও কিছু কিছু করে এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলছে।এছাড়াও সকালবেলা ড্রেনের ময়লা ও বাজারের আবর্জনা পরিষ্কার করে সে আবর্জনা সুইপার চাঁদপুর জেলা পরিষদ ও হাজীগঞ্জ পৌরসভার পৌর গণসৌচাগারের আশেপাশে ফেলে যাচ্ছে। এতেকরে ময়লা আবর্জনা ডাকাতিয়া নদীর দিকে ক্রমান্বয়ে হেলে পড়ছে।
২২ এপ্রিল মঙ্গলবার সংবাদ কর্মীর নজরে আসে হাজীগঞ্জ বাজারের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে নদীর পাশে গণসৌচাগারের পাশে ফেলে যাচ্ছে সুইপারসহ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত পাশ দিয়ে নারী-পুরুষ নাকে কাপড় দিয়ে হাঁটাচলা করছে। এতে করে দুর্গন্ধে অতিষ্ট ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ। ময়লা আবর্জনার কারণে পুরুষ হাঁটাচলা করলেও নারীরা হাঁটা চলার সময় বমি করছে। অনেকে এতে হাঁটাচলা করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পাশেই হাজীগঞ্জ বাজারের পুরনো মাছ বাজার ও রনি ফ্লাওয়ার মেইল। দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা আবর্জনার কারণে মশা মারছি ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ বাজারের তিন পট্টি, যেমন হলুদ পট্রি, স্বর্ণকার পট্টি ও তরকারি পট্রির ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারনের সুবিধার্থে একমাত্র চাঁদপুর জেলা পরিষদের পরিষদ ও হাজীগঞ্জ পৌরসভার অর্থায়নে নির্মিত এই দুইটি গণসৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ময়লা আবর্জনা সহ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এই জনঃ গুরুত্বপূর্ণ সৌচাগার। সুইপার ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দৈনন্দিন ছুঁড়ে ফেলা ময়লা আবর্জনার কারণে দিনের পর দিন এই নোংরা পরিবেশ হয়ে পড়ে আছে। গণসৌচাগার দুটির দিকে তাকালেন যেন মনে হয় ময়লা আবর্জনার ইস্তুপ।
কিছু ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু আমাদের অসাধু ব্যবসায়ী ও সুইপাররা আমাদের সাথে রং তামাশা করছে। খামখেয়ালী মত ময়লা আবর্জনা গণসৌচাগারের পাশে রেখে পরিবেশ দূষণ করছেন। দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতা সাধারণ বাজারে আসলে জরুরী প্রয়োজনে বাথরুমে এসে ময়লা আবর্জনা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। জরুরী প্রয়োজন গণসৌচাগার ব্যবহার ছাড়াই তারা চলে যাচ্ছে। হাজীগঞ্জ বাজারে যে কয়টি গণ শৌচাগার রয়েছে সবগুলোই পরিতক্ত অবস্থায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে আছে। সুইপাররা কোনরকম জোড়া তালি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষ সৌচাগারে প্রয়োজনীয় কাজ কোনরকম করে আসছে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর সুইপার কলোনির শিমুল হরিজ এর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই গণসৌচাগার দুটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোন সংস্কার কাজ করা হচ্ছে না। কোনরকম পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে রাখা হচ্ছে। এতে করে কেউ খুশি মনে ৫ /১০ টাকা দিলে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করছে। কয়েকদিন পূর্বে বিদ্যুতের লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তাই ডাকাতিয়া নদী থেকে বালতি ভরে পানি উঠানো হচ্ছে।
এইট বাংলা সংগঠনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী হাজীগঞ্জ পৌরসভায় কর্মরত রবিউল ওরফে রবি এবং আব্দুল মুন্নাফের সাথে কথা হলে গণসৌচাগারের পাশে ময়লা ফেলার কথা তাঁরা শিকার করে বলে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার কোন ডাম্পিং বা ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থান নেই বলে আমাদের কিছু লোকজন এখানে ময়লা ফেলে। তবে বাজারের বেশিরভাগ ময়লা মিঠা নিয়া ব্রিজের ওইদিক চলে যায়। ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে খুব কম আসে। বাজার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ ভোর পাঁচটার মধ্যে এবং ড্রেনেজ লাইনের কাজ ৯ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত করার নির্দেশনা আছে।
হাজীগঞ্জ পৌরসভার বৈদ্যুতিক ইঞ্জিনিয়ার মো: মাহবুব আলম বলেন, আমাদের হাজীগঞ্জ পৌরসভায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কর্মী রয়েছে ৪২ জন, এদের মধ্যে ৩০ জন ঝাড়ুদার ও ১২ জন ড্রেনেজ লাইনের পরিষ্কার কাজ করছে। ডাকাতিয়া নদীর পাশে ময়লা আবর্জনা ফেলার কথা তিনি জানেন না। তবে সঠিক সময় বাজারের ময়লা আবর্জনা নিষ্কাশন হয়। ডাকাতিয়া নদীর পাশে অথবা গণসৌচাগারের চারপাশে ময়লা ফেলার কোন অভিযোগ ব্যবসায়ী বা কেউ করেনি। অভিযোগ করলে ময়লা ফেলা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাজীগঞ্জ বাজারে জন গুরুত্বপূর্ণ হলুদ পটির দক্ষিণ মাথায় ডাকাতিয়া নদীর পাশে, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পূর্ব পাশে ও উত্তর পাশে, বালুর মাঠের উত্তর পাশে, স্টেশন রোডের বটতলায়সহ চার পাঁচটি গণসৌচাগারের সবগুলোই জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এই গণসৌচাগার গুলো আওয়ামী লীগ সরকার এর আমলে টেন্ডারের মধ্যে দেওয়া হলেও। বর্তমানে ৫ আগস্টের পর থেকে এভাবেই টেন্ডারবিহীন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। চাঁদপুর হরিজন কলোনির সুইপারগন পরিচ্ছন্ন করে দু চার টাকার বিনিময়ে চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি.
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
Views: 0

















