গোবিন্দপুরে চাল উদ্ধারের ঘটনায় ফরিদগঞ্জে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদগঞ্জ চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোবিন্দপুরের মো. সোহেল বেপারী। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের সন্তান। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত মৎস্য ব্যবসায়ী। এবং ইতিপূর্বে জাতীয় ভাবে মৎস্য চাষে পুরষ্কৃত হয়েছে।

তিনি লিখিত বক্তব্য বলেন, আমার কর্মব্যস্ত জীবনের সারাদিন মাছের আবাদ নিয়েই কাটে। এর ফাঁকে আমি জাতীয়তাবাদে তথা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ভালোবাসি বলেই তার দল করছি। আমি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন এর সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সামাজিক বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করি। আপনারা অবগত রয়েছেন, আমি সর্বদা সততা, নিষ্ঠা এবং বাস্তববাদী হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করি।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মামলা হামলা জেল জুলুর অত্যাচার সহ্য করেছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি বাড়িতে। ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমি চেষ্টা করেছি নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।

৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী গোয়ালভাওর বাজারে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি শুরু করলে আমরা প্রতিবাদ করেছি। বাজারের ব্যবাসয়ীদের নিয়ে লাঠি মিছিল করে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছি। বস্তুত সেই সময় থেকেই আমি এলাকার একটি পক্ষের রোষানলে পড়েছি। তাছাড়া রাজনৈতিক গ্রুপিং তো রয়েছেই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রোববার ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া গোয়ালভাওর বাজারে সরকারি চাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করেন, আমি তা শুনেছি। স্থানীয়
গোয়ালভাওর বাজারে ব্যবসায়ী ওলি উল্যাহ বেপারীর মুদি দোকানের গোডাউন থেকে সরকারি (আতপ চাল) উদ্ধার করা হয়েছে। যা বেয়াইনী ও অপরাধ যোগ্য। বিষয়টি আমি ফেসবুকের মাধ্যমে দেখে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমেন্টসও করি।

কিন্তু চাল উদ্ধারের পর ব্যবসায়ী ওলি উল্যাহ বেপারীর ছেলে দোকান পরিচালনাকারী সাইফুল ইসলামকে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রদান করে। তিনি আদালতকে জানায়, আমি তার কাছে চাল বিক্রি করেছি। যা নিতান্ত হাস্যকর। বস্তুত এসব কান্ডের সাথে আমি কখনোই জড়িত নই।

তার গোডাউনে কোথা থেকে কিভাবে এসব চাল এলো আপনারা অনুসন্ধান রিপোর্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে। তাছাড়া বাজারের যে সব সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষন করলেই মুল ঘটনা বেরিয়ে আসবে আমি নিশ্চিত।

আপনাদের মনে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক তাহলে সাইফুল কেনো আমার নাম বললো। তার কারণ হলো তাদের সাথে আমার জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। একটি ঝিলের মালিকানা নিয়ে আমার সাথে দ্বন্ধ শুরু হয়। সাইফুল ইসলামের পিতা ওলি উল্যাহ বেপারী চলতি বছর আমার নামে এই ঝিলকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ (সংযুক্ত) দেয়। আমি ওই ঘটনায় দুই বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাজিরা দিলেও তিনি হাজির হননি। এই বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে এখনো ঝামেলা রয়েছে। তাছাড়া আমার নিজের অনেক মাছের প্রজেক্ট রয়েছে, আমার যদি চাল কিনতে হতো তাহলে আমি নিজে মাছের খাবার হিসেবে কিনে আমার কাছেই রেখে দিতাম। তার কাছে বিক্রি করবো কেনো। বরং আমার সাথে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও আমি নিয়মিত তার দোকান থেকে মাছের খাবারের জন্য খাদ্য ক্রয় করে থাকি।

কিন্তু ওলি উল্যাহ বেপারীর ছেলে চালকাণ্ড থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমাকে অন্যায় বাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। অথবা কারো প্ররোচনায় তিনি এই কাজ করেছেন বলে আমার মনে হয়।
১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত আমার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, এটা সত্য। কিন্তু কোন দালিলিক প্রমাণ পাননি আদালত। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, তারপরও উপস্থিত বাজার ব্যবসায়ী কমিটি ও দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সম্মান রক্ষার্থে জরিমানার আদেশ মেনে নেই।

আমি এই সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পষ্ট বলতে চাই, আমি চালকাণ্ডের সাথে জড়িত নই। আপনারা অনুসন্ধান করুন। দেখুন কে বা কারা এর সাথে জড়িত। আমার এই বিষয়ে সৎ সাহস রয়েছে বলেই আমি আপনাদের সামনে এসে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়েছি। আমি বিগত বন্যায় লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বর্তমানে আমার ৩০টি বেশি পুকুর ও ঝিল রয়েছে। এগুলে চাষাবাদে ব্যস্ততা রয়েছে। সেখানে আমার বড়ো অংকের টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। তাই খুদ খেয়ে মুখ নষ্ট করার মানুষ আমি নই। বিষয়টি নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন। আশা করছি আপনাদের লেখনি শক্তির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদযাটিত হবে। তাতে সত্যের জয় হবেই।

এইসময় উপস্থিত ছিলেন বাজার ব্যবসায়ী আলী হোসেন বেপারি, পলাশ,শাহ আলম,আব্দুস সালাম খান।

শেয়ার করুন
মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

Views: 0

শেয়ার করুন