জনসমুদ্রে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, তারেক রহমান: স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি পড়বে মেয়েরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  :
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আমরা নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিমাসে একজন মা আড়াই হাজার টাকা পাবে। এই টাকা দিয়ে পরিবারের সন্তানদের যত্ন ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজে লাগাতে পারবে। অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট থেকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আগামী বাজেটে আরও বৃদ্ধি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী পূর্বে নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমাদের সরকার স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করবে এবং এর মধ্যে যারা মেধাবী, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর কারণ হচ্ছে নারীদের স্বাবলম্বী না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, তরুণ সমাজকে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত করে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা এবং দেশে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি, তাহলেই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দেওয়া সম্ভব হবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পরিবারের জীবনমানের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচিতে গ্রাম থেকে শহর– সব জায়গার মানুষ উপকৃত হবে। যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এতে মানুষ উপকৃত হবে। আমাদের রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার। আমাদের রাজনীতি প্রতিশ্রুতি পালনের। এই রাজনীতি পছন্দ হলে, বিশ্বাস করলে সচেতন থাকতে হবে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বৈরাচাররা বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেবে না বলেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা যখন প্রতিশ্রুতি পালন শুরু করেছি, তখন কিছু সংক্ষুব্ধ মানুষ বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে যে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

মানুষ সচেতন ছিল বলেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কাজ করার রায় মানুষ দিয়েছে, সেসব কাজ আমরা বাস্তবায়ন করবো। কেউ বাধা দিতে চাইলে মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে ভেস্তে দেবে। বিভ্রান্তকারীদের ফাদে পা দেয়া যাবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর জনসভাকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ। মাঠজুড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ মানুষের ঢল, উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্তরা খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে।’

চাঁদপুর ছাড়াও আরও ২০ টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী- হাসিনা খাতুন, সোহাগী আখতার, ফাতেমা খাতুন, আমেনা খাতুন, মোসেদা বেগম, মনোয়ারা বেগম,মাহমুদা খাতুন, রুমা আখতার, নাজমা বেগম এবং তাসলিমার হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল আহমেদ এমপি,সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদ বেগম হীরা এমপি, চাঁদপুরের জেলা পরিষদের প্রশাসক সলিম উল্যা সেলিম এবং সমাজ কল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া রুমা আখতার ও মনোয়ারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী) সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দুপুর হওয়ার আগেই শত শত নারী চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার জন্য।

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের শুভ সূচনার আগে কোরআন থেকে তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়। এর পরে বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে— ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ… জীবন বাংলাদেশ, আমার মরণ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

পরে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা যায়, হতদরিদ্র পরিবারে এক নারীর অভাব আর সংগ্রামের নিদারুণ কষ্টের মাঝে স্বস্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিএনপি সরকারের দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে দুপুর পৌনে ২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামের ঘোষের হাট সংলগ্ন এলাকায় ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সেটিরও উদ্বোধন করেন। দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন তিনি। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর বিকেল ৬ টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

Views: 1

শেয়ার করুন