দক্ষিণ কোরিয়ায় জিআইসিসি সম্মেলনে মতলব-গজারিয়া সেতু নির্মাণে আলোচনা

সফিকুল ইসলাম রানা : দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কো-অপারেশন কনফারেন্সে (জিআইসিসি) চাঁদপুরের বহুল প্রতীক্ষিত মতলব-গজারিয়া সেতু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বাংলাদেশে সম্ভাব্য বড় অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের মধ্যে মতলব-গজারিয়া সেতুকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেন।
১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর সিউলের ওয়েস্টিন পারনাস হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে বিকল্প সড়ক সংযোগ তৈরি করাই সেতুটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য। এটি বাস্তবায়িত হলে, রাজধানীর সঙ্গে যাতায়াত সময়, দূরত্ব ও খরচ কমবে। শিল্পোন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও পর্যটন খাতে গতি আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, চাঁদপুরের দুই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনকালে সেতু সচিব জানান, সেতু বিভাগের কয়েকটি প্রকল্পে কোরিয়ার ইডিসিএফ/ইডিপিএফ তহবিল থেকে অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পরিবহন খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি তুলে ধরেন।
জিআইসিসি-২০২৫ মূলত একটি বিজনেস-টু-বিজনেস প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বিভিন্ন দেশের সরকার, প্রজেক্ট ডেভেলপার ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে।
সম্মেলনে ৩০টি দেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং কোরিয়ার শীর্ষ নির্মাণ সংস্থাসহ প্রায় ৫০০ জন অংশ নেন। এখানে নতুন অবকাঠামো প্রজেক্ট নিয়ে ব্রিফিং, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের প্যানেল আলোচনা, বিজনেস মিটিং এবং কোরিয়ান নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, জিআইসিসি’র মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং কোরিয়ার উন্নত প্রযুক্তি যেমন স্মার্ট সিটি, হাই-স্পিড রেল ও স্মার্ট পোর্ট সিস্টেম প্রচার করা।
Views: 0



















