ফরিদগঞ্জ রূপসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

​আনিছুর রহমান সুজন :

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ ঘটিকায় এক বর্ণাঢ্য অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির (টিপু)-এর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্মানিত সদস্য গাজী মো. মাহবুবুর রহমান। এছাড়া প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক মাওলানা মাহবুবুল আলম, মো. মতিউর রহমান, শেমিয়ারা খাতুন প্রমুখ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি চাঁদপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মেধা-মনন বিকাশ এবং বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে অত্যন্ত সৃজনশীল, সময়োপযোগী ও গভীর শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা কেবল গতানুগতিক পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করা বা সার্টিফিকেট অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং প্রকৃত শিক্ষা হলো মানুষের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং নৈতিক চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি গভীর জীবনমুখী শিক্ষা তুলে ধরে বলেন যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও লাইফস্টাইল জীবন ও কর্মে অনুসরণ করতে হবে এবং নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে লালন ও পালন করে সৎ পথে জীবন পরিচালনা করতে হবে। বর্তমান যুগের নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, কারণ শিক্ষকের দোয়া ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সার্থক হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো গ্রহণ করে এর অপব্যবহার থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি মাদক, বাল্যবিবাহ এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মনে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

​শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলার বিষয়ে প্রধান অতিথি কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ার সংস্কৃতি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করে তাদের মেধার সঠিক বিকাশ ঘটাতে হবে। অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কোনো অবস্থাতেই পরবর্তী শ্রেণীতে প্রমোশন দেওয়া যাবে না। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে শিক্ষকদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত মূল্যায়ন সভা করার নির্দেশ দেন তিনি।

​পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। এর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতি শতভাগে উন্নীত করা, সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ (একটি শিশু, একটি গাছ) কর্মসূচি অনুযায়ী ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবায়ন এবং প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করা। শিক্ষার্থীদের সুবক্তা ও যুক্তিবাদী করে গড়ে তুলতে ডিবেট ক্লাব সক্রিয় করা, বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়াতে প্রতি বছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করা এবং বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সবসময় সচল রাখা। এছাড়া, ছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষায় নিয়মিত কাউন্সেলিং জোরদার করা এবং ক্যাম্পাস ও নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

​সমাপনী বক্তব্যে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির (টিপু) বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একা দায়িত্ব নিলে চলবে না; বরং সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনে অভিভাবকদেরও ঘরের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব করতে হবে। সন্তানরা কোথায় যায়, কার সাথে মিশছে এবং পড়ার টেবিলে সময় দিচ্ছে কি না—তা নিয়মিত তদারকি করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারী শিক্ষার প্রসার ছাড়া একটি জাতি কখনো পূর্ণাঙ্গভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই বালিকাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সব সময় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

প্রকাশিত :শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

Views: 5

শেয়ার করুন