বিএনপির নাম ভাঙিয়ে মিথ্যা গল্প, গরিব পরিবারের একমাত্র অটোরিকশা লুটে নিল দুর্বৃত্তরা

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
বিএনপির নামদিয়ে তথ্যের গড়মিল গল্প রচনা করে অসহায় পরিবারের রুটিরুজির সম্বল অটোরিকশা লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অবুঝ শিশুদের নিয়ে অর্ধহারে- অনাহারে কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের জীবন। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশায় ভুগছে অসহায় পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর ইউনিয়নের হাওয়াকান্দি গ্রামে।
সরেজমিনে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ২ সন্তানের জনক শাহজালাল প্রতিবেশি একটি মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে একটি গল্প রচিত হয়। কেউ বলছে জোরপূর্বক ধর্ষণ, আবার কেউ বলছে মেয়েটি ৬ থেকে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এমন খবরে স্থানীয়দের মাঝে তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও কেউ থানা পুলিশকে অবগত করেনি। ভয়ভীতি দেখিয়ে শাহজালাল ও কথিত ঘটনার নায়িকার পরিবারকেও এলাকাছাড়া করে দেয় বিএনপির নামধারী একটি চক্র। এঘটনার প্রতিবাদ করলে ঘটনার শিকার শাহজালালের বড় ভাই মো. হেলাল গাজীর অটোরিকশাটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় বিএনপির নামধারী এ চক্রটি।
ভুক্তভোগী মো. হেলাল গাজী বলেন, আমার ভাই নাকি একটি মেয়ের সাথে অনৈতিক কাজ করেছে। এ কাজের ফলে মেয়েটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। যে মেয়েকে ঘিরে আমার ভাইয়ের নামে এমন অপবাদ মেয়েটির পরিবার বা আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর কোন অভিযোগ না থাকলেও আমাদের এলাকার বিএনপি নেতা খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে আরো কয়েকজন এসে আমার ভাইয়ে ভয়ভীতি দেখায়। মান সম্মানের ভয়ে স্ত্রী ও শিশু ২ সন্তান রেখে আমার ছোট ভাই শাহজালাল এলাকা থেকে চলে যায়। যদিও আমার ভাইয়ের দ্বারা এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। মিথ্যা এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে খলিলুর রহমানেরা আমার অটোরিকশাটি জোরপূর্বক আমার থেকে নিয়ে যায়। আমার রুটিরুজির একমাত্র সম্বল অটোরিকশাটি নিয়ে যাওয়ার কারনে অবুঝ সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। অটোরিকশাটি উদ্ধার ও অপরাধীদের বিচার চাই।
হাউমাউ করে কেঁদে ঘটনার শিকার শাহজালের স্ত্রী নিপা আক্তার ও মো. হেলাল গাজীর স্ত্রী ডলী বেগম বলেন, আমরা অসহায় মানুষ হওয়ার কারনে বিচার পাবোনা? আমাদের ঘরে খাওয়ার জন্য চাল ডাল কিছুই নেই। অবুঝ শিশু সন্তানদের কান্না আমাদের আর সহ্য হয়না।
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম পাটওয়ারী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদিরসহ আরো অনেকেই বলেন, আমাদের এলাকায় খলিলুর রহমান গংরা একটি চক্র আছে, তাদের কাজ হলো বিভিন্ন ইস্যু তৈরী করে মানুষকে হয়রানি করা এবং চাঁদাবাজি করা। অসত্য একটি গল্প রচনা করে তারা নিরীহ এ পরিবারটির অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে। জেনেছি, ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জিল হোসেন বলেন, খলিলুর রহমান বিএনপির কোন সাংগঠনিক পদে নেই। সে বিএনপির নাম দিয়ে এলাকাতে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। আমরা শুনেছি, শাহজাহাল নাকি তাদের প্রতিবেশি একটি মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের জেরে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। তবে যেহেতু ওই মেয়ের পরিবার এবং শাহজালালের পরিবার লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তাহলে আমাদের বিচারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু চাঁদাবাজ খলিলুর রহমান কি কারণে অসহায় এ পরিবারটির অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে, তা আমার বোধগম্য নই।
এদিকে খলিলুর রহমানকে এলাকায় পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত : শনিবার, ০২ মে ২০২৬ খ্রি.
Views: 9























