বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার লাগাতে বাধা, হামলার মামলায় দুই আসামি কারাগারে

সফিকুল ইসলাম রানা :
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মান্দারতলী বাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে ব্যানার লাগাতে গিয়ে হামলার শিকার হন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন মো. সুমন (৪০) ও অনিক (২০)। তারা চাঁদপুর আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দুই আসামি মাদক, ইভটিজিংসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবেও এলাকায় পরিচিত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের আব্দুর রহমান (৬০) বাদী হয়ে মতলব উত্তর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর জিআর-২২৩/২৪।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ২০২৪ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাদীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম সৈকতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের মাগফেরাত কামনা ও স্মরণে মান্দারতলী বাজারে ব্যানার লাগাতে যান।
এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে তারা শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আরো জানা যায়, ১ নম্বর আসামি মো. সুমন দেশীয় ধারালো অস্ত্র (লোহার ছেনি) দিয়ে তৌহিদুল ইসলাম সৈকতের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে তার বাম হাতে গুরুতর জখম হয়।
এছাড়া ২ নম্বর আসামি অনিক ছুরি দিয়ে সোহেল মাস্টারের মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। ৪ নম্বর আসামি লিটন প্রধান কাঁচি দিয়ে আঘাত করে কোমরে গুরুতর জখম করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার মুখে আহতরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মান্দারতলী মোজাদ্দেদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত জেসমিন বেগমের গলায় থাকা ১০ আনি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া, শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। পরে আহতদের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত তৌহিদুল ইসলাম সৈকতকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার পর অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলে, আমরা শেষ হয়ে যাই নাই, আওয়ামী লীগ দাঁড়াইয়া আছে; যে কোনো সময় তোদের প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলবো।
এ ঘটনায় মো. সুমন, অনিক, পাবেল, লিটন প্রধান, পলাশ প্রধান, হাবিবসহ আরও ১২/১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এলাকাজুড়ে ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.
Views: 9
























