১৭ বছরের ত্যাগের পরও তৃণমূল উপেক্ষিত: তারেক রহমানের কাছে হুমায়ুন কবিরের খোলা চিঠি

আমি একজন তৃণমূলের কর্মী হিসেবে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের দল সরকার গঠন করছে আজ ২ মাস ৮দিন। এই দল সরকার গঠন করার পিছনে ১৭ টি বছর রাস্তায়, রৌদ্র-বৃষ্টি, শীত-গরমের তাপ, ছাত্রলীগ থেকে আওয়ালীগের হামলার স্বীকার , গুম-খুন, হত্যা , জেল-মামলা, পুলিশি হামলা সর্বশেষ ঘর-বাড়ি এলাকা ছাড়তে হয়েছিলো লাখ নয় কোটির উপরে ছাত্রদল , যুবদল , স্বেচ্ছাসেবক দল সহ বিএনপির কর্মী সমর্থকদের। এই মানুষ গুলোর শুধু মাত্র একটাই চাওয়া ছিলো একদিন হাসিনার বিদায় হবে, আমরা মাথা উঁচু করে গর্বের সহিত শান্তিতে বসবাস করবো।
কিন্তু বাস্তব চিত্রটা এখন ভিন্ন রুপ নিতে চলছে। নির্বাচনের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি যতো জায়গায় গেলাম , যতো সাধারণ কিংবা মধ্যম সারির সাথে কথা বললাম কোনো কোনো সময়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেও উপলব্ধি করতেছি এ দলের কর্মীরা ভালো নেই। একবুক চাপা কষ্ট নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কর্মী সমর্থকরা আপনার মন্ত্রী-এমপি কিংবা আপনার প্রোটকলে চারপাশে যারা আছে তাদের কাছে কোনো টাকা-পয়সা চায়না তারা চায় একটু সম্মান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কর্মীরা ১৭ বছর এতো কষ্ট করেছেন , জেল-ঝুলুম খেটেছেন , না খেয়ে থেকেছেন কিন্তু টাকায় বিক্রি হয়নি, আপনার কর্মীদের যদি টাকার নেশা থাকতো তাহলে ১৭ বছরে এদের সবার জীবনে একবার হলেও সুযোগ আসছিলো অন্য দলে যেয়ে টাকা কামানোর , ক্ষমতার দাপোট দেখানোর তারা কিন্তু সেটা কেউ করেনি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার শত নয় হাজারো কর্মী গুম-খুন হয়ে গেছে কিন্তু সারা বাংলাদেশে একজন কর্মীও পাওয়া যাবেনা যারা বিএনপিকে ছেড়ে , আমাদের প্রাণের নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া কিংবা আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি হয়তো জানেননা আপনার মন্ত্রী-এমপি এবং প্রটোকলে থাকা বেশিরভাগই এখন সুশীল হয়ে গেছে , তারা শুধু মাত্র আপনাকে খুশি করানোর জন্য লোক দেখানোর পারফরম্যান্স নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতেছেন।এরা এতোটাই সুশীল হয়ে গেছেন যে তাদের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে তারা অন্য কোনো গ্রহ থেকে কেবল মাত্র এই বাংলাদেশে গমন করেছেন। তারা যে কর্মীদের উপর ভর করে মন্ত্রী- এমপি কিংবা ভালো পজিশনে এসেছেন এটা তারা ভুলেই গেছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার পরিষদের কিংবা সাথে থাকা বেশিরভাগই এখন নিজেদের কে সুশীল ভাবতে শুরু করেছেন। তারা কর্মীদের ফোন কল রিসিভ তো দূরের কথা সালামের উওরও ঠিক মতো দেয়না এমনকি তৃণমূল কর্মীদের মেছতা পড়া মুখটার দিকে একবার তাকায়ওনা। এটা খুবই কষ্টদায়ক, এটা মেনে নেয়া যায়না। তারা সবাই আপনার আশেপাশে থাকতে চায় কেউ কর্মীদের পাশে থাকতে চায়না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেকেই বলতে শুরু করেছে আমরা এর থেকে বিরোধী দলেই ভালো ছিলাম, নেতাদের স্নেহ পেতাম খোঁজ খবর নিতো, কল দিলে পাওয়া যাইতো , সালাম দিলে একটা উওর পেতাম আর এখন এ কি হইলো ! এটা খুবই হতাশা জনক, আর কতোটা মানসিক যন্ত্রণার এবং লজ্জার সেটা কেউ কারো সাথে শেয়ার করতে পারতেছেনা।মানসিক ভাবে এরা ভেঙে পরছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি হুমায়ুন কবির বেপারী মামলা খেয়েছি শুধুমাত্র আপনার দল বিএনপি করতে গিয়েই দীর্ঘ ১৭ বছর মানবতার জীবন যাপন করেছি!
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সাথে যারা ছিলো দীর্ঘ ১৭ বছর তার মধ্যে আমিও কিন্তু ছিলাম অনেকই মূল্যায়ন করেছেন আমি কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে যে রকমের ছিলাম সেই রকমই বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার তৃণমূল কর্মীরা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, তাদের আশা এবং ভরসার একমাত্র অভিবাভক আপনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ দল এবং সরকারকে সামনে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে , কিন্তু আমাদের উপর মহল মনে হয় ভুলেই যাচ্ছে তাদের নিচে তৃণমুলে এদেশে কয়েক কোটি দলীয় কর্মী সমর্থক বসবাস করতেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ লেখাটা আমি লিখেছি , শুধু মাত্র আমার নিজের জন্য কিংবা নিজের হতাশা থেকে লিখিনি। এটাই চরম বাস্তবতা , আমার এ লেখা আপনার পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা আমি জানিনা তবে আমার এই স্ট্যাটাস যদি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে তাহলে আমার অনুরোধ , আপনি দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে অথবা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে একটু খবর নেওয়ার জন্য জোর অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে আপনি আপনার দলের তৃণমূল কর্মীদের হতাশা এবং নিরব কান্নার আওয়াজ শুনতে পাবেন।
হুমায়ুন কবির বেপারী
সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল
কেন্দ্রীয় কমিটি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট
সাবেক সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপি
সাবেক সম্পাদক জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল
অবিভক্ত ঢাকা মহানগর মহাসচিব, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন
প্রকাশিত : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.
Views: 22





















