হাজীগঞ্জে ২ ছেলের হামলায় অসহায় বাবা-মা আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি: থানায় অভিযোগ

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড বলাখাল বকাউল বাড়ির অসহায় দিনমজুর স্বামী-স্ত্রীর উপর দুই সন্তান বেধড়ক মারধর করে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ির লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। স্ত্রী বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আমাদেরকে জানায়। এলাকাবাসী এই ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ৯ টার সময় তার প্রবাসী দুই ছেলে বাবা মায়ের উপর অমানবিক নির্যাতন করে। এক পর্যায় কিল ঘুসি ও লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করে। তাদের শরীরে ও ঠোঁটে জখমের দাগ রয়েছে। হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রাখেন।
জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ড বলাখাল বকাউল বাড়ির আব্দুল করিম বকাউল এর ছেলে অসহায় দিনমজুর ইসমাইল বকাউল (৬০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫৫) উপর দুই ছেলে ইব্রাহিম বকাউল ও ইউনুস বকাউল বেদর মারধর করে এবং জুবড়ি ঘর এর উপর হামলা চালায়। এতে করে ঘরের টিন ও দরজা জানালা ভাঙচুর করা হয়। বাড়ির আশপাশের লোকজন এসে ছেলেদের হাত থেকে বাবা-মাকে রক্ষা করে।
অসহায় বাবা ইসমাইল বকাউল বলেন, দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর সময় এনজিও এবং সমিতি থেকে উত্তোলনকৃত টাকা চাইলে দিবে না বলে অস্বীকার করে একপর্যায়ে আমার দুই ছেলে ইব্রাহিম বকাউল ও ইউনুস বকাউল আমাদেরকে বেদর মারধর করে এবং আমাদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে। আমি হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তির সংসদ লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের কাছে আমার সন্তানদের বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জনমদুখিনী অসহায় মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমি আমার ছেলেদের বিচার চাই। তারা আমাদেরকে এর পূর্বেও অনেক বার মারধর করেছে। আমার স্বামী ও আমার উপর অমানবিক অত্যাচারের বিচারের দাবিতে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করবো। তারা আমাদের এনজিও ও কিস্তির টাকা এবং ভরণ পোষণ দেয় না। উল্টা আমাদের মারধর করে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
অভিযুক্ত ছেলে ইব্রাহিম বকাউল বলেন, আমাদের বাবা মায়ের কারণে আমাদের একে একে দুই ভাইয়ের পাঁচটি বউ চলে গেছে। তারা আমাদের বউদের সাথে মিলেমিশে খেতে পারে না। তাদের অশান্তির কারণে আমাদের দুই ভাইয়ের বউ চলে যায়। আমরা প্রবাসে কামাই করে স্ত্রীদের হক কাবিনের টাকা দিয়ে বিদায় দিতে হয়। আমাদের মা ও বাবার মুখের ভাষা ভালো না। আমরা রাগের মাথায় বাবা-মার গায়ে হাত দিয়ে অন্যায় করেছি এর জন্য ক্ষমা প্রার্থী। এলাকাবাসী বলছে বিষয়টি মীমাংসা করে দিবে।
এলাকাবাসীর দাবি এ নেককার জনাব ঘটনাটি প্রশাসনে উদ্বোধন কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দিবেন এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনবেন। না হয় সমাজে একের পর এক অবক্ষয় দেখা দিবে। তাদের দেখা মতো অন্যান্য ছেলেরাও বাবা-মার গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করবে না। তাই আমরা সবাই এদের বিচার চাই।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Views: 8
























