হাজীগঞ্জ পৌর ৪ নং ওয়ার্ডে মাদক নির্মূলে বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নানের কঠোর হুঁশিয়ারি

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডকে মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পৌর ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ দুধ মিয়া জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসবিরোধী আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মান্নান বলেন, “মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এটি আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নয়, অপরাধই হবে বিচারের একমাত্র ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলেছেন।

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকও সংসদে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাই সমাজকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মাদকের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, জুয়া, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন।

সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি মাদকমুক্ত, সুশৃঙ্খল ও বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, চুরি, ছিনতাই, জুয়া, ইভটিজিং ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।

তারা একটি নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও অপরাধবিরোধী সমাজ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকাশিত : রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬

.

Views: 5

শেয়ার করুন