মতলব উত্তরে সাপের দংশনে বাড়ছে আতঙ্ক: এক বছরে ১৬৩ জনের জীবন রক্ষা

সফিকুল ইসলাম রানা ; চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সাপের দংশনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় দুইজনের মৃত্যুর পাশাপাশি এক বছরে ১৬৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
গত ২১ আগস্ট সকালে উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের হাতীঘাটা টরকি গ্রামে গৃহবধূ খুকি বেগম (৩৫) সাপের কামড়ে মারা যান। গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎ বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তিনি মারা যান।
এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর (২০২৪) উপজেলার রাঢীকান্দি গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যান লিটন খান (৩৬)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, গত এক বছরে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের দংশনের চিকিৎসা নিয়ে ১৬৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট উপজেলার বোরচর এলাকার মো. জালাল উদ্দিন (৭০) রাসেল ভাইপারের দংশনের শিকার হন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মজুদ থাকা এন্টিভেনম দিয়ে চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মতলব উত্তরের মেঘনা নদীর পূর্বপাড়ের ষাটনল থেকে আমিরাবাদ এবং পশ্চিমপাড়ের বোরচর, চরউমেদ ও চর ওয়েস্টার এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে রাসেল ভাইপারের উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাঠে-ঘাটে এবং বসতবাড়িতে এ সাপের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলাম, যিনি একবার সাপের দংশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন, বলেন, আগে সাপের কামড় মানেই মৃত্যু ভাবতাম। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা পাওয়া যায়, তাই বাঁচার আশা বেড়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় রাসেল ভাইপারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
বোরচর এলাকার কৃষক মো জালাল উদ্দিন, যিনি সম্প্রতি রাসেল ভাইপারের দংশন থেকে প্রাণে বেঁচেছেন, বলেন, আল্লাহর রহমতে ও ডাক্তারদের কারণে আমি সুস্থ হয়েছি। সময়মতো হাসপাতালে না এলে হয়তো আর বাঁচতাম না।
চিকিৎসকরা বলছেন, সাপের দংশনের শিকার হলে কোনো অবস্থাতেই ঝাড়ফুঁক বা ভেষজ চিকিৎসায় সময় নষ্ট করা যাবে না। বরং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়।
এলাকাবাসীর দাবি, বাড়তে থাকা সাপের উপদ্রব ঠেকাতে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যাপ্ত এন্টিভেনম মজুদ রাখা জরুরি।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে এন্টিভেনম মজুদ রয়েছে। রোগীরা যদি সময়মতো হাসপাতালে আসেন, তাহলে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। গত এক বছরে আমরা ১৬৩ জন রোগীকে সফলভাবে চিকিৎসা দিতে পেরেছি। তবে অনেকেই এখনও কুসংস্কার বা ভেষজ চিকিৎসার উপর নির্ভর করেন, যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানি ঘটে।
মঙ্গলবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শেয়ার করুন
Views: 0


















