মতলব-বাবুরহাট সড়কের দেড় শতাধিক দোকানঘর উচ্ছেদ

ইমরান নাজির, মতলব প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মুন্সিরহাট বাজারে জেলা পরিষদ ও সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করে সদর উপজেলা প্রশাসন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জেলা পরিষদ। অভিযানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরাও অংশ নেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছিল। নিয়মিত নোটিশ দেওয়ার পরও এসব স্থাপনা অপসারণ না করায় অবশেষে অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদকৃত স্থানে ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো স্থাপনা গড়তে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন কর্মকর্তারা।

উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত মুন্সীরহাট ও বরদিয়া আড়ং বাজারে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সকল স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করে সদর উপজেলা প্রশাসন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জেলা পরিষদ। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও অংশ নেন।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান ঘর উত্তোলন করে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল স্থানীয়রা। নিয়মিত নোটিশ দেওয়ার পরও এসব স্থাপনা অপসারণ না করায় অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

উচ্ছেদকৃত স্থানে ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো স্থাপনা গড়তে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন কর্মকর্তারা।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম জাকারিয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত জামিল সৈকত, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের পুনর্বাসনের দাবি জানান সচেতন মহল।

চা দোকানদার নুরুল ইসলাম বলেন,চা বিক্রি করে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসার চালাতাম।হঠাৎ করে দোকান উচ্ছেদ করায় চোখে মুখে শুধু অন্ধকার দেখছি। সরকার যেন আমাদের কর্মসংস্থানের একটি ব্যবস্থা করে দেন।

ফার্মেসীর মালিক বশির উল্লাহ, স্টিলের আলমারি দোকান মালিক কামাল মিয়াজী,ভাই ভাই স্টোরের মালিক আব্দুর রহমানসহ আরো ১৫/২০ জন দোকান মালিক বলেন,আমরা জেলা পরিষদে টাকা জমা দিয়ে দোকান ঘর উঠিয়ে ব্যবসা করে আসছি দীর্ঘদিন যাবৎ। জেলা পরিষদ থেকে কয়েকবার নোটিশ দিয়েছেন দোকান সরিয়ে নেয়ার জন্য, অন্যথায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।একাধিকবার নোটিশ দেয়ার পরও উচ্ছেদ অভিযান না হওয়ায় এবারের বিষয়টিও তেৃন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মাত্র একমাসের নোটিশে সকল দোকান উচ্ছেদ করা হবে এটা বেশীরভাগ দোকান মালিক ভাবতে পারেনি।তাই ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন তাদেরকে সরকারি কোন জায়গায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫

শেয়ার করুন

শেয়ার করুন

Views: 0

শেয়ার করুন