মোবাইল নয়, বই হোক সঙ্গী: জেলা প্রশাসক

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। সোমবার (১৩ জুলাই) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনের পাশাপাশি তাঁর সফরের প্রধান আকর্ষণ ছিল চির্কা চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘জ্ঞানকুঞ্জ পাঠাগার’ উদ্বোধন।
‘বই পড়ি, জ্ঞান গড়ি, আলোকিত মানুষ হই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পাঠাগারটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন জেলা প্রশাসক।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, বর্তমানে শিশুরা খুব অল্প বয়স থেকেই মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিশুদের মোবাইল নির্ভরতা কমিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই এ ধরনের লাইব্রেরি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকে জানতে হলে বই পড়ার বিকল্প নেই। আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে আবারও লাইব্রেরিমুখী করতে হবে। শিশুরা যত বেশি বই পড়বে, তত বেশি জ্ঞান অর্জন করবে। এই উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.আর.এম. জাহিদ হাসান, ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা, গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ, চির্কা চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
পরে জেলা প্রশাসক গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ এবং পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, রাজস্ব আদায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবার মান বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
Views: 6

























