ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সহযোগিতা ও আল্লাহর সাহায্য চাই : শাহরাস্তিতে সাংবাদিক সম্মেলনে ১০ দলীয় জোট প্রার্থী ড. নেয়ামুল বশির

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু : চাঁদাবাজি, মাস্তানি, দখলদারি ও জনগণকে হুমকি দেওয়ার সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে ডা. শফিকুর রহমান ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বে দেশে নতুন ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি–হাজীগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. নেয়ামুল বশির। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. নেয়ামুল বশির বলেন, ৫ আগস্টের পর হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যারা চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল, হুমকি ও এসব অপকর্মে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাদের অপকর্ম বন্ধ করতেই হবে। শুধু একটি অঞ্চল নয়, পুরো বাংলাদেশ থেকেই এই জুলুম বন্ধ করতে হবে। আমরা চাই মানুষ যেন নিরাপদে ঘুমাতে পারে, নদীর বালির অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হোক, দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার হোক এবং আজীবনের জন্য চাঁদাবাজির অবসান ঘটুক।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে যে সিন্ডিকেট কাজ করছে তা ভেঙে দিতে হবে, যাতে ২–১ লাখ টাকার মধ্যেই মানুষ বিদেশে যেতে পারে। পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কোনো বিশেষ কার্ড দেখিয়ে স্বপ্ন বিক্রি করতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে উঠুক। গর্ভকালীন সময়ে অপচিকিৎসার কারণে মায়েদের মৃত্যুহার কমাতে হবে। কমিউনিটি চিকিৎসকরা যেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মায়েদের খোঁজখবর রাখেন, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যদি ক্ষমতায় আসি, তাহলে নিশ্চয়তা দিতে পারি নির্বাচনে এখন যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এত টাকা লাগবে না। আদর্শিক সংগঠনের জন্য নির্বাচন কখনোই ব্যয়বহুল হওয়ার কথা নয়।
জামায়াত, এলডিপি, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসসহ গঠিত জোট ক্ষমতায় এলে দেশের চিত্র বদলে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ হবে, কোনো রক্তচক্ষুকে দেশ পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। আমরা বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই।
নারী নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন , আমরা এমন সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মা-বোনেরা রাত ২টা বা ৩টার সময়ও প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবেন এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না।
তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা জনগণের সহযোগিতা চাই এবং মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করি। এই সমাজ গড়তে গুন্ডা, বদমাশ বা ডাকাত নয়, ভালো মানুষের নেতৃত্ব প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইনের ত্যাগ ও বিসর্জনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জোট ও আদর্শের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান রেখে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে এবং ভোটকেন্দ্র দখল হতে দেবে না।
ড. নেয়ামুল বশির হুঁশিয়ার করে বলেন, কেউ যদি পেশিশক্তি ব্যবহার, প্রশাসনের অপব্যবহার, রাতের অন্ধকারে ভোট দেওয়া বা ভোটকেন্দ্রে বলপ্রয়োগের চিন্তা করে, তবে সে দিন ভুলে যেতে হবে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সুশৃঙ্খল দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমরা আছি। তাদের শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড যেমন স্পষ্ট, তেমনি এই নির্বাচনে প্রশাসনও নিরপেক্ষ থাকবে। গত ৫৪ বছরে যে পরিবর্তন হয়নি, এবার সেই পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। আমাদের ছোট ছোট শিশুরা রক্ত দিয়ে আমাদের এই সুযোগ করে দিয়েছে। পুরোনো বন্দোবস্ত আর চলবে না, বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে হবে।
প্রতিবেশী একটি আগ্রাসনবাদী দেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা কখনোই চায় না বাংলাদেশ স্থির ও সুন্দরভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করুক। ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলে আসছে। আগে একজন এজেন্ট ছিল, এখন নতুন একজন বসানোর চেষ্টা চলছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই দিল্লির শাসন এ দেশে চলবে না। যতদিন আমরা আছি, ততদিন বাংলাদেশপ্রেমী ও সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আবুল হোসাইন বলেন, চাঁদপুর-৫ (শাহরাস্তি–হাজীগঞ্জ) আসনে ড. নেয়ামুল বশিরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয়ভাবে গৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যশীল—এটাই জামায়াতের ঐতিহ্য ও সাংগঠনিক শিক্ষা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিগত সময়ে বিভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা দেখেছে এবং সেসব অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করেই এবার জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের বাংলাদেশ, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এই জোটের লক্ষ্য হলো চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ, দখলদার ও চুরিমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
শাহরাস্তি উপজেলা জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক সাংবাদিক মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আমীর মো. মোস্তফা কামাল, নায়বে আমীর বাদশাহ ফয়সাল প্রমুখ।
প্রকাশিত : রোববার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
Views: 0






















