হাজীগঞ্জে ডিগ্রি ও সাটিফিকেট ছাড়াই ভুয়া চিকিৎসা

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ড্রাগ লাইসেন্স ও আরএমপি বা ডিএমসির সাটিফিকেট ছাড়াই রমরমা ফার্মেসী ব্যবসা চালাচ্ছেন ভুয়া পল্লী চিকিৎসক মো. শাকিল হোসেন। এমন অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঐ ভুয়া পল্লী চিকিৎসককে কারন দর্শানের নির্দেশ দিয়েছেন।
দেখা যায়, উপজেলার ৭ নং বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়নের একতা বাজারে বিশাল পরিসরে ইনসাফ মেডিসিন কর্ণার গড়ে উঠেছে। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই আজে বাজে কোম্পানির দেশী বিদেশি ওষুধ পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছে। সেই সাথে ভুয়া আরএমপি নাম্বার লাগিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে ভুল বাল প্রেসক্রিপশন দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে এ ভুয়া পল্লী চিকিৎসক শাকিল হোসেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশে স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন একতা বাজার ইনসাফ মেডিসিন কর্ণারে তদন্ত চালায় ৬ অক্টোবর সোমবার। ড্রাগ লাইসেন্স দেখতে চাইলে তালবাহানা করে। আরএমপি ভুয়া নাম্বারটি চাঁদপুর সদর উপজেলার তার জনৈক এক মামার বলে দাবি করে। পরে তাকে এবিষয়ে কারন দর্শানোর নির্দেশনা দেন।
বিষয়টি স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীরা জানতে পেরে এ ভুয়া চিকিৎসকের উপর ত্যাড়িয়ে এসে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ রোগী সামছুল ইসলাম বলেন, আমরা আগে জানলে তার কাছে আসতাম না। তার কথামতে হাজীগঞ্জে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে অনেক টাকা নষ্ট করেছি।
অনুসন্ধানে জানাযায়, গত বছর মো. শাকিল হোসেন পল্লী চিকিৎসক কোর্সে ভর্তি হয়ে মাত্র ১৫/২০ দিনের ক্লাস করেন। তার পর আর ক্লাস না করে নিজেই একতা বাজারে ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই বিশাল পরিসরে গড়ে তোলেন ইনসাফ মেডিসিন কর্ণার। সেই সাথে দোকানের সাইনবোর্ডে আরএমপি ফার্মাসিস্ট, রেজি: নং সি ১৬২০৪২ লিখে গত এক বছর ধরে চালিয়ে আসছেন রমরমা ব্যবসা।
এমন অনিয়মের কথা শিকার করে ভুয়া পল্লী চিকিৎসক শাকিল হোসেন বলেন, আমার ভুল হয়েছে তবে আমার মত এরকম আরো লোক রয়েছে তাদের কাছে যান।
সরেজমিন তদন্তের বিষয়ে উপজেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি শাকিল হোসেন নামে এ লোক ড্রাগ লাইসেন্স বা কোন প্রকার সাটিফিকেট ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে এবং এর সত্যতা পেয়েছি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএসও) ডা. মো. তানভীর হোসেন বলেন, আমার নির্দেশনা অনুযায়ী স্যানেটারী ইন্সপেক্টর একতা বাজারে তিনটি ঔষধের দোকান পরিদর্শন করেছে। এ ব্যক্তির কোন ড্রাগ লাইসেন্স ও কোন প্রকার সাটিফিকেট নেই। প্রয়জনিয় কাগজ পত্র দেখাতে না পারলে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্টেটের মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
মঙ্গলবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৫
Views: 2






















