খাল-পুকুরে পোল্ট্রি বর্জ্য, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মতলব উত্তরের শতাধিক পরিবার

সফিকুল ইসলাম রানা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর পূর্ব ফতেপুর ইউনিয়নের পশ্চিম লুধুয়া গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফার্মের মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করে আশপাশের পুকুর ও খালে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহার ও পুকুরে মাছ চাষও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য জমিয়ে রাখায় পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পাশের খালের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একইভাবে পুকুরে বর্জ্য পড়ায় মাছ চাষ করতে পারছেন না স্থানীয় পুকুর মালিকরা। দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবারের।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা দুর্গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্ট, বমিভাব ও মাথাব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলে তারা অভিযোগ করছেন। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও স্বস্তি পাওয়া যায় না। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত শুনানিতে পোল্ট্রি ফার্মের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত হননি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বোরহান কাজী, বিল্লাল মুন্সি, নুরে আলম বেপারী, নুর নবী মুন্সি, শাহিদা বেগম, শামসুন্নাহার, সফিকুল ইসলাম প্রধান, হাজেরা, শেফালী, বৃষ্টি, রুহুল আমিন প্রধান, রাহিমা, রোকেয়া, খোদেজা, কোহিনুর ও মিলিসহ অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যরা বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনায় তাদের আপত্তি নেই। তবে ফার্মের বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। বর্জ্য খাল-পুকুরে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
তারা আরো অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার একটা মেয়ের বিবাহের বিবাহের সম্বন্ধ আসছিল কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে সেই বিবাহটি হয়নি।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হলে একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মোহাম্মদ মাহিন হোসাইন। তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আমার খামারটি স্থাপন করেছি। আমার খামার থেকে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন করে বিভিন্ন বাড়িতেও সরবরাহ করছি। কয়েকদিন আগেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমার খামার পরিদর্শন করে গেছেন।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, আমি মাহিনের পোল্ট্রি ফার্মে গিয়ে দেখে এসেছি। বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। পরিবেশ দূষণের বিষয়টি আমাদের দপ্তরের কাজ নয় আমাদের কাজ হচ্ছে প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন।
চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শরমিতা আহমেদ লিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা বিষয়টি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত শুনানিতে ফার্ম কর্তৃপক্ষ উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.
Views: 3






















