ছেংগারচর বাজারের ভুয়া ডাক্তার মুজিবের ভুল চিকিৎসায় ক্যান্সার ঝুঁকিতে জহির

মতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তর প্রতিনিধিঃ চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারে চিকিৎসার নামে মুজিবুর রহমান নামে একজনের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে।

ঘটনার বিবরনে জানাগেছে, উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার জোরখালী গ্রামের মৃত আজিজ সরকারের ছেলে ডাক্তার মুজিবুর রহমান সরকার (৫০) বাজারের বারআনী রোডে ব্রাদার্স ফার্মাসি নামে একটি ঔষধের দোকান চালায়। সে তার ঔষধের দোকানের আড়ালে অনুমোদন বিহীন বিদেশী ঔষধ অবৈধভাবে বেচাকেনার সাথে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে। অবৈধভাবে বিভিন্ন মানুষ কে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছে।
ছেংগারচর পৌরসভার ঢালীকান্দি গ্রামের মৃত জয়নাল প্রধানের ছেলে জহিরুল ইসলাম (২৫) নামে একজন জুলাই মাসের প্রথম দিকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মুজিব ডাক্তার এর ভুল চিকিৎসায় আজ সে মরণব্যাধি ক্যানসারের দিকে ঝুকে পড়ছে।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম মতলব উত্তরে কর্মরত সাংবাদিকদের জানান আমি কিছুদিন আগে ছেংগারচর বাজারে আমার পারিবারিক কাজে আসলে মুজিব ডাক্তারের ব্রাদার্স ফার্মেসির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমার হাতে পায়ে থাকা এলার্জির সমস্যা দেখতে পেয়ে তিনি আমাকে ডেকে আনেন। তারপর আমাকে বলেন, তোমার যে এলার্জি তার কোন চিকিৎসা কি তুমি নেওনা, আমি বললাম চিকিৎসা করাচ্ছি কিন্তু দ্রুত ভালো হচ্ছে না। তখন সে আমাকে বলে আমার কাছে চিকিৎসা আছে তিনদিনের মধ্যে ভালো হবে, কিন্তু তোমার একটু টাকা বেশি লাগবে তখন মুজিব ডাক্তার কে আমি বললাম টাকা দিবো কিন্তু চিকিৎসা সঠিক হওয়া চাই। সে বললো কোনো সমস্যা নাই তোমার পা গুলো আমাকে একটু দেখাও। আমি দেখানোর পরে সে আমার পায়ে হালকা হেক্সিসল দিয়ে মুছে একসাথে ১০/১৫ টা ইনজেকশন দেয়। এতে আমি আপত্তি জানালে বলে জওয়ান পুরুষ কিসের ভয়পাও। তুমি একটু ধৈর্য ধারণ করো, যদি চাওনা যে এলার্জি ভালো হোক? আরো কতজনকে আমি এলার্জির চিকিৎসা করিয়েছি তারা এখন সুস্থ আছে, এই বলে মুজিব ডাক্তার আমাকে একসাথে (৩২) টা ইনজেকশন আমার পায়ে প্রদান করেন এবং বলেন যে তোমার ৪৫০০ (চার হাজার পাঁচশত) টাকা বিল হয়েছে। আমি আমার সাথে থাকা ২০০০(দুই হাজার) টাকা উনাকে দিয়ে বাকি ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশত) টাকা বাকি রেখে আমি বাড়িতে চলে আসি।
দুই দিন পর ভুক্তভোগী জহির দেখেন তার পায়ে আগের চেয়ে দশগুণ এলার্জি এবং পায়ের নখের চিপায় পচনধরে গিয়েছে তৎক্ষণাৎ সে ভুয়া ডাক্তার মুজিব কে জানালে সে বিভিন্ন খারাপ ভাষায় গালমন্দ ও হুমকি দিয়ে বলে যে ভুক্তভোগীকে তুই আমার পাওনা টাকা বাকি ২৫০০( দুই হাজার পাঁচ শত) টাকা দে আর এসব সমস্যার কথা কাউকে বলবিনা, বললে তোর ঠ্যাং ভেঙ্গে দিবো। ভুক্তভোগী কোন সুরাহা করতে না পেরে ঢাকায় একজন এলার্জি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান তখন জানতে পারেন যে তাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কারণে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন তুমি এলাকায় গিয়ে ভুয়া ডাক্তার মুজিব এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেও।
এদিকে জহিরুল ইসলাম ঢাকা থেকে এসে গত ২৭ জুলাই তারিখে মতলব উত্তর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম (মনি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে আশ্বস্ত করেন ও ভুয়া ডাক্তার মুজিব এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর মুজিব ডাক্তারের লিখিত অভিযোগ দেয়ার আড়াই মাসেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের ভুক্তভোগী জহির জানান, মুজিব ডাক্তার কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে এমবিবিএস/বিডিএস পাশ না করেও ছেংগারচর ও জোরখালি গ্রামে মানব দেহের যে কোনো হাড়-ভাঙ্গা, মচকা, বিষ-ব্যথা, রগের ব্যথা, কোমর ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, মেরুদণ্ডের ব্যথা, জরায়ু ক্যান্সার ও স্ত্রীরোগ, গ্যাস্ট্রিক-আলসার, স্বাস্থ্যহীনতা, যৌন দুর্বলতাসহ অন্যান্য জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ অপচিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করে আসছিলেন ওই ভুয়া ডাক্তার।
এই ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন পৌরবাসী।
এদিকে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে সে বলেন, আমার বিষয়ে ঘটনা সত্য নয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুয়া ডাক্তার মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, আমি সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে নির্দেশ দিয়েছি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।
রোববার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
![]()





















