তীব্র তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি, মতলব উত্তরের জনজীবনে ফিরে এলো প্রাণচাঞ্চল্য

সফিকুল ইসলাম রানা : দীর্ঘ কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহের পর ১৪ মে দুপুরে হঠাৎ এক দফা প্রবল বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে এই বৃষ্টি যেন এক নির্মল প্রশান্তির পরশ বয়ে এনেছে। বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় হাঁসফাঁস করা মানুষজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন। দিনের পর দিন সূর্যের প্রচণ্ড তাপে কর্মস্থলে যেতে কষ্ট হচ্ছিল সাধারণ মানুষদের। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও রিকশাচালকদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল এই আবহাওয়া।
বৃষ্টির জেরে শিশুরা, তরুণরা এবং সাধারণ মানুষ আনন্দে ভিজেছে। বিভিন্ন হাট-বাজারে গত কদিনের তুলনায় আজ ভিড় দেখা গেছে বেশি। গরম কমায় মানুষজন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন বাইরে চলাফেরায়।
এদিকে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টি মৌসুমি বায়ুর প্রভাব। আগামী কয়েকদিনে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
স্থানীয় দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, “এই কয়দিন তাপের মধ্যে কামে বাইর হওয়া খুব কষ্ট আছিল। মাথার উপরে আগুন আর পকেট ফাঁকা। এই বৃষ্টি একটু শান্তি দিছে। এখন অন্তত ঠান্ডা বাতাস পাইতেছি।”
স্থানীয় রিকশাচালক আলমগীর হোসেন বলেন, “গত কদিন রিকশা চালানোই যাচ্ছিল না। রাস্তায় নামলেই শরীর গরমে কাঁপত। যাত্রীও কম ছিল। এখন বৃষ্টি হইছে, বাতাস ঠান্ডা হইছে। আজকে দুপুর থেকে একটু বেশি যাত্রী পাইতেছি। আয়-রোজগারটা কিছুটা বাড়ছে, আলহামদুলিল্লাহ।”
মতলব উত্তর কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, “টানা খরার কারণে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জমিতে পানির অভাবে ধানের চারা রোপন ও অন্যান্য আবাদে সমস্যা হচ্ছিল। এই বৃষ্টিতে জমির আর্দ্রতা ফিরবে এবং বীজতলা তৈরিতে সুবিধা হবে। তবে ধারাবাহিক বৃষ্টির প্রয়োজন আছে।”
জীবগাঁও জেনারেল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক বিল্লাল হোসেন জানান, “ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে মন বসছিল না। গরমে সবাই অস্থির ছিল। আজ একটু শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আশা করছি সামনে আরও কিছুটা বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোবারক হোসেন জানান, গরমের কারণে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার রোগী বেড়ে গিয়েছিল। এখন আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এসব সমস্যা কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, “গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে অনেক খামারে গবাদি পশু ও পোল্ট্রির স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুরগির খামারগুলোতে হিটস্ট্রোক ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখন বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এই সমস্যা কিছুটা প্রশমিত হবে। তবে খামারিদের সতর্ক থাকতে হবে—পানি সরবরাহ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং খামারে ছায়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মাঠপর্যায়ে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”
হঠাৎ করে হওয়া এই বৃষ্টি মতলব উত্তরবাসীর জন্য যেন প্রকৃতির উপহার। মানুষজন এখন প্রাকৃতিক স্বস্তিতে কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে, তবে তারা চায় এই স্বস্তি যেন স্থায়ী হয়।
বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
Views: 0

















