হাজীগঞ্জের এক সপ্রবির বাউন্ডারি গেট না থাকায় জাতীয় পতাকা খুঁটির রশি বারবার চুরি

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম: হাজীগঞ্জের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয় পতাকার খুঁটি রশি বারবার দুর্বৃত্ত কারীরা নিয়ে যাওয়ার কারণে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সহ সকলের মনে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি মৌখিক ভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা অফিসার কে জানিও কোন সূরাহ হয়নি। বেহাল দশা হয়ে পড়ে আছে বাউন্ডারি গেট। অবাধ বিচরণ করছে বখাটে সহ বহিরাগত লোকজন। এ থেকে নিস্তার পেতে চায় শিক্ষক বৃন্দ।

বারবার চুরি শিকার হাজীগঞ্জ পৌরসভা দিন ৬ নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ ১৫০ নং উত্তর পূর্ব মকিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পতাকার খুঁটি থেকে বারবার রশি চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্ত কারীরা। এতে করে ফুসে উঠছেন শিক্ষক শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিভাবক বৃন্দ। এর মূল কারণ বাউন্ডারি হলেও গেইটের দরজা ঠিকাদার না লাগানোর কারণে একের পর এক দুর্বৃত্তকারীরা অপকর্মগুলো করে যেতে সাহস পাচ্ছে।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৫০ নং উত্তর পূর্ব মকিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টি। দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটি হাটি হাটি পা পা করে আজ এ পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান, ২ য় বারের মত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ ওসমান গনি, ৩ য় বারের মত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন নাজমুন নাহার।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুন নাহার বলেন, ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি সুনামের শহীদ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি বর্তমান ২০২৫ সাল পর্যন্ত অদ্যাবধি চতুর্থ বারের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বভার কাঁদে নিয়ে পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়নের আপ্রাণ চেষ্টা করে স্কুলটি এ পর্যন্ত এনে পৌঁছিয়েছেন। বাউন্ডারি গেটের দরজা না থাকার কারণে কচিকাঁচা শিশু বাচ্চারা রাস্তায় চলে যাচ্ছে। ঘটছে নানান ছোটখাটো দুর্ঘটনা। স্কুলে ঘটছে চুরি ছিনতাই।

এই স্কুলটির চারপাশের বাউন্ডারি গেট ছিল না। বর্তমানে বাউন্ডারি দেওয়াল উঠলোও গেটের কাজ ঠিকাদারের অবহেলায় না হওয়ায়। বারবার এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বাউন্ডারি ও গেটের নির্মাণ কাজ পেয়েছে শাহারাস্তির মেসকাত এন্টারপ্রাইজ। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে স্কুলের বাচ্চাদের জন্য নির্মিত অজুখানা, খেলাধুলার স্থান ও স্কুলের দরজা জানালার গ্লাস এবং জাতীয় পতাকার খুঁটির রশিসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় মালামাল দুর্বৃত্তকারীরা একের পর এক নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্কুলের অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়ছে।

(২০ মে) মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নিলে অন্যান্য শিক্ষিকারা জানা যে, হাজীগঞ্জ পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ ১৫০ নং উত্তর পূর্ব মকিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে আমরা ৬ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছি। এরমধ্যে ২ শিক্ষক, ৪ জন শিক্ষিকা রয়েছে। বর্তমান ২০২৫ সালে এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম পর্যন্ত ৫৭ জন। এই স্কুলের লেখাপড়ার মান অন্যান্য স্কুলের তুলনায় আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো। তার কারণ আমাদের স্কুলের সুদক্ষ প্রদান শিক্ষকসহ শিক্ষিকার অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ এই প্রতিষ্ঠানটি এটুকু এসে পৌঁছেছে। তবে দুর্বৃত্তের হানায় বারবার স্কুলটি জর্জরিত।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের স্কুলের প্রদান গেট না থাকার কারণে বারবার স্কুলে দুর্বৃত্ত কারীরা হানা দিয়ে অনেক ক্ষতি করেছে। আমি মৌখিকভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ও হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। অদ্যাবধি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে কোন লোক এসে গেটটি লাগিয়ে দেয়নি। গেটটি না লাগানোর কারণে এপর্যন্ত বহুবার দুর্বৃত্তকারীরা প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারির ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকার খুঁটির রশি ও স্কুলের গ্লাস দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই কচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা অতীব জরুরী হয়ে পড়ছে।

Views: 4

শেয়ার করুন