হাজীগঞ্জের টোরাগড় গ্রামের জুলাই যোদ্ধা জয়নাল আবেদীন সরদার পায়ের ব্যথায় ভুগছে এখনো

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভাড়া ৮ নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের সুলতান সরদার বাড়ি মৃত আব্দুল জব্বারের কৃতি সন্তান জুলাই যোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন সরদার জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত পায়ের ব্যথায় ভুগছে। পায়ের ব্যথার কারণে দৈনন্দিন ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। পেশায় একজন পরিবহন শ্রমিক।
২০২৪ ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেট, টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জের সময় টিয়ার্সেলের একটি অংশ পায়ের আংগুলির মধ্যখানে পড়ার পর থেকে পায়ের মধ্যে পচনের মত ক্ষত সৃষ্টি হয়। ওই থেকে শুরু হয় চিকিৎসা প্রায় আজ পর্যন্ত ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও পায়ের ব্যথা সেরে ওঠেনি এই জুলাই যোদ্ধা।
জুলাই যোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন সরদার বলেন, আমি হাজীগঞ্জ পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক, ট্রাকো ও টেং লরির ২৪/২৪ এর সাগঠনিক, স্বৈরাচার আমলীগের আমলে ১৩ মামলার আসামি, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার। জুলাই আন্দোলনে পায়েল দুই আঙ্গুলের মধ্যখানে সাউন্ড গ্রেনেট / টিয়ারসেলের একাংশ পড়ে গুরুতর আহত হই। ওই থেকে এখন পর্যন্ত আমি পায়ের ব্যথার জন্য হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯ মাসেও পায়ের ক্ষত চিহ্ন শুকায়নি, প্রতিনিয়ত নিতে হচ্ছে দুটি ইনজেকশন ১৫ শত টাকা করে ৩ হাজার টাকা দাম। অনেক কষ্টে যোগান দিতে হয় দৈনন্দিন ওষুধের টাকার। পরিবহন শ্রমিক হয়েও আমার পরিবার চলছে কোনরকম ডাল ভাত খেয়ে। দুই ছেলে এক মেয়ের ও স্ত্রী সহ পরিবারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। এরই মাঝে পায়ের অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা ভার বহন করতে আমার হিমশিম খেতে হয়।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জ হওয়ার কারণে জুলাই যুদ্ধের সময় একমাত্র হাজীগঞ্জের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। জীবন বাজী রেখে তারা যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে স্বৈরাচার পতনের উদ্দেশ্যে। ওই সময় থেকে অনেকে আহত এবং ৪ জন নিহত হয়। কয়েকজনের মধ্যে আমাদের এই জুলাই যোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন সরদার সহ অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতের পাশাপাশি আহতদেরকে অসহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
Views: 1
























