৩০ বছর পর প্রাক্তন শিক্ষকের সাথে নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা

গাজী মোহাম্মদ মহসিন :
দীর্ঘ ৩০ বছর পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার দ্বাদশ গ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ।
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক মোঃ জুলহাস উদ্দিন এর সাথে বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সুদীর্ঘ ৩০ বছর পর শিক্ষক-ছাত্র/ছাত্রীদের মিল বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে শিক্ষক নিজেই ভালবাসার টানে প্রথমে প্রিয় শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করেন, এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের খোঁজ পেয়ে অনেক আনন্দিত ও খুশিই হন ।
আজকের সমাজে, যেখানে শিক্ষক কিংবা প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা দ্রুত কমে যাচ্ছে, সেখানে নাসিরকোট হাই স্কুলের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একটি অসাধারণ উদ্যোগ সমাজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সু সম্পর্কের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
১৯৯৫ সালের ১৯ নভেম্বর, নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক (মোঃ জুলহাস উদ্দিন স্যার ) বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে নিজ জেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে “বরাটী নরদানা বাংলদেশে উচ্চ বিদ্যালয়” যোগদান করেন। তার পর আর যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ৩০ বছর পরও যেন অম্লান।
১৯৯১ সালের ২ জানুয়ারি নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন। অল্প দিনের মধ্যেই তিনি ভাল গনিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাবান ও শিক্ষার্থীর প্রিয় শিক্ষক, তখন আরও কয়েকজন প্রতিভা বান শিক্ষকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সে সময়ে বিদ্যালয়ের ফলাফল অনেক ভালো হতো, প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় মেধা তালিকা সহ ভালো ফলাফল অর্জন করতো, কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো আজকের দিনে সেই স্কুলের ফলাফল অনেক নিম্নমানের হয়ে পড়েছে।
নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষককে স্মরণ করতে এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে একত্রিত হয়। শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি জুলহাস উদ্দিনের নিজ টাংগাইলের বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করে, শিক্ষকের বর্তমান পরিস্থিতি ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। সেখানে শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কের বন্ধন আবারও দৃঢ় হয়ে ওঠে। শিক্ষক ছাত্রদের স্নেহ ভরা সাদর আপ্যায়ন করেন, এবং ছোটবেলার মধুর স্মৃতি চারন করেন। বিদায়ক্ষণে অশ্রু সিক্ত নয়নে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকের ব্রেইন স্ট্রোক ও তাঁর অটিস্টিক মেয়ের রোগমুক্তি কামনা করে এবং কিছু উপহারও প্রদান করে সম্মান জানায়।
একই দিনে টাংগাইলের দর্শনীয় স্থান ও পরিদর্শন করা হয় । প্রায় আড়াই যুগ পরে একই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ছিল খুবই প্রাণবন্ত।
এই গুরু সেবা ও ট্যুর প্ল্যান টি সফলভাবে সম্পন্ন করতে যারা শারীরিক ও আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন মোঃ মজিবুর রহমান, মোঃ লোকমান হোসেন, মাসুদ পারভেজ, মোঃ কামাল হোসেন, তোফাজ্জল হায়দার নসু, জামাল হোসেন, জামাল উদ্দিন, মফিজুল ইসলাম, মানিক মিয়া এবং মোঃ জিসান আহমেদ, মোঃ শাহা আলম। বিদেশ থেকে যারা সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন মোঃ আবু জাফর (রবিন), তাছাড়া মোঃ নাসির হোসেন, ও বাবু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন। এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা মোঃ শামসুদ্দিন, মোঃ আক্কাস আলী, মোঃ মামুন, মোঃ কামরুল ইসলাম এবং মোঃ জিয়া উদ্দিন তারা সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে সাহায্য করেছেন।
এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক কখনো মুছে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের সমাজে আজকাল শিক্ষক এবং প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নাসিরকোট হাই স্কুলের এই উদ্যোগ আমাদের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে। আমরা ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ উদ্যোগের জন্য তাদের প্রশংসা জানাই এবং তাদের পথ অনুসরণ করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক , শ্রদ্ধা , স্নেহ , ভালোবাসা অটুট থাকুক সকল সমাজে, সকল মানুষের মাঝে যা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্রকাশিত : শনিবার, ০২ মে ২০২৬ খ্রি.
Views: 10
























