মতলব উত্তরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সফিকুল ইসলাম রানা : চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ফতেপুর পূর্ব ইউনিয়নের সিপাই কান্দিতে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সুজাতপুর বাজারে অবস্থিত মতলব উত্তর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. নজরুল ইসলামের মেঝো মেয়ে শারমিন আক্তার। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, নুরুল ইসলাম ও তার ছেলে রাজমিস্ত্রি হোসেন’সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, রক্তপাত এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি করে আসছে।
তিনি বলেন, গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে তারা পরিকল্পিত ভাবে আমাদের সিপাহী কান্দি গ্রামে আমার বাবা ও মায়ের উপর হামলা চালায়, হামলায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তারা মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি রয়েছে। এর পূর্বে গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখ সকালে ইজমালী পুকুরের ঘাটলায় কাজ করার সময় হোসেন আমার মা লুৎফা বেগমের ওপর ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন। এতে তার মা গুরুতর জখম হন এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় নূরুল ইসলাম তার ছোট বোনকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে হাতের হাড় ভেঙে দেয় বলে দাবি করেন শারমিন আক্তার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর মামলা দায়ের করলে আসামিরা জামিনে বের হয়ে উল্টো তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করছে। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে তার ভাই মিন্টু, বোন শাম্মি ও ভাইয়ের স্ত্রী মুক্তাকে আসামি করে ৩০৭/৩২৩/৩২৫/৩৫৪ ধারায় একটি মামলা করেন।
শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, তার তিন ভাই ও তিন বোন দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকলেও তাদের নামও সাজানো মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি গত ৩ অক্টোবর রাতে পুলিশ তার বাবাকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, নুরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কথিত হাত ভাঙার চিকিৎসার বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
শারমিন আক্তার বলেন, আমরা একটি সাধারণ পরিবার। ১৯৯০ সাল থেকে নুরুল ইসলাম পরিবার আমাদের ওপর বারবার হামলা, মামলা ও রক্তপাত ঘটিয়েছে। এখন আমরা প্রশাসনের কাছে শেষ আশ্রয় চাই। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
![]()





















