চাঁদপুরে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, অভিযুক্ত জালিয়াত চক্রের সদস্য নাসির ভূঁইয়া

সফিকুল ইসলাম রানা :

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের মৈষাদী মৌজায় পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে মানবাধিকার কর্মী ও ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক সুমন চন্দ্র পোদ্দারকে প্রকাশ্যে (পায়ের নিচে পিষে) ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক ও সার্ভেয়ার নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার (সদস্য নং ৬৬) বিরুদ্ধে। গত ১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সকালে উপজেলার গজরা ইউনিয়নের মৈষাদী মৌজায় একটি জমি পরিমাপের সময় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিগত প্রায় ২৫ বছর পূর্বে ক্রয়সূত্রে (দলিল নং ১৪০৭) মেঘাদী মৌজার ৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা লাভ করে নবজাগরণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ। দীর্ঘদিন ধরে সমিতি উক্ত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিল। গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে সমিতির সভাপতি ও কার্যকরী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, গজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে উক্ত জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য মাপ-ঝোঁকের কাজ শুরু হয়।

ন্যায্য ও আইনি প্রক্রিয়ায় মাপ ঝোঁক চলার এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভাইয়েরা উগ্র ও উত্তেজিত মনোভাব নিয়ে এসে বাধা প্রদান করেন। সমিতির পক্ষ থেকে জমির বৈধ কাগজপত্র ও দলিল প্রদর্শন করা হলেও নাসির উদ্দিন তা উপেক্ষা করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতে থাকেন।

এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, তারা ২০০২ সালে স্বর্গীয় সন্তোষ চন্দ্র পোদ্দারের সন্তানদের কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। মূল মালিক সুমন চন্দ্র পোদ্দারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দিলে নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার ভাইয়েরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা জনসম্মুখে সাংবাদিক সুমন চন্দ্র পোদ্দার ও তার মৃত মাকে নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একই সাথে সুমন পোদ্দারকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পায়ের নিচে পিষে মেরে ফেলা হবে বলে বারবার উচ্চকণ্ঠে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিক সুমন চন্দ্র পোদ্দার স্থানীয় সাংবাদিকদের অবহিত করেন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল এবং গজরা বাজারে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সমিতির সভাপতিসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য গ্রহণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নাসির ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে এই হুমকি প্রদান করেছেন, যা একজন সিনিয়র সাংবাদিকের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঘটনার দিন রাতে ঢাকা থেকে নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া ও তার চক্রটি অত্যন্ত ভয়ংকর, পরধনলোভী এবং জাল দলিল তৈরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তারা পেশীশক্তি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাংবাদিক সুমন চন্দ্র পোদ্দারকে তার পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য এই হুমকি দিয়েছেন। অথচ জমির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নাসির ভূঁইয়া গং উক্ত জমিতে কোনো অংশই পায় না, উল্টো সুমন চন্দ্র পোদ্দারই আইনগতভাবে জমির প্রকৃত অংশীদার।

প্রকাশ্যে জনসম্মুখে একজন গণমাধ্যমকর্মীকে বিনা অপরাধে এভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিক সমাজ প্রশাসনের কাছে অনতিবিলম্বে তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন

প্রকাশিত:  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.

 

Views: 6

শেয়ার করুন