মতলব উত্তরে জমি নিয়ে বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগে আদালতে মামলা

সফিকুল ইসলাম রানা :

মতলব উত্তর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তির জমি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবাদ করায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। উপজেলার খন্দকার কান্দি গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাঁদপুর মতলব উত্তর আমলী আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী খন্দকার কান্দি গ্রামের বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান। তিনি একই গ্রামের শাহীন, মোক্তার, নাজমুলসহ ৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৮ নং ধনারচক মৌজার বিএস ৪১৮ নং খতিয়ানভুক্ত বিএস ৯৬১ নং দাগে মোট ১৪ শতাংশ জমির মধ্যে বাদীর পিতা মৃত তৈয়ব আলী শিকদার ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমি থেকে ৪ শতাংশ বিক্রি করলেও অবশিষ্ট অংশে আম, নারিকেল, সুপারি ও বাঁশসহ বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে দীর্ঘদিন ভোগদখল করে আসছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তি ভোগদখল করেন তার ছেলে হাবিবুর রহমান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ওই জমিতে প্রবেশ করে একটি আম গাছ, তিনটি নারিকেল গাছ, ১৮টি সুপারি গাছ এবং একটি বাঁশঝাড়সহ মোট ২৩টি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গাছ কাটার ঘটনায় বাধা দিলে আসামিরা দা ও কুড়াল নিয়ে বাদীর দিকে তেড়ে আসে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৮৯ সালে মামলার রায় ঘোষণার পর ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯০ সালে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। দীর্ঘ ২৭ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালে আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়।

বাদী হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাবা কদম আলী জমাদারের কাছ থেকে ৭ শতাংশ এবং জলিল জমাদারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে আরও ২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করলেও যেখানে গাছগুলো ছিল, সেটি আমাদের দখলে ছিল এবং দলিল অনুযায়ী ওই অংশ আমরা পাওনা। আমার বাবা জীবিত থাকতেই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। সম্প্রতি আমার মা মারা যাওয়ার পর আমি বাড়িতে না থাকায় প্রতিপক্ষরা সুযোগ নিয়ে গাছগুলো কেটে ফেলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।

অন্যদিকে বিবাদী শাহীন ও মোক্তার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হাবিবের বাবা জীবিত থাকতেই বিএস ৯৬১ দাগের ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করে গিয়েছেন। সেই দলিলের চৌহদ্দিতে পশ্চিমাংশে আমাদের রয়েছে। আমাদের দলিলের চৌহদ্দির মধ্যে ওই জায়গাটি রয়েছে এবং সেটি আমাদের বাড়ির সামনের অংশ। আমরা সেখানে খামার স্থাপনা করব বলে গাছগুলো কেটেছি। আমরা আমাদের জমিতে শতভাগ অধিকারভুক্ত অবস্থায় আছি। বিষয়টি এখন আদালতে গেছে, আমরা আদালতেই জবাব দেব এবং ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।

প্রকাশিত : শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ খ্রি

Views: 5

শেয়ার করুন