নিরহংকারী, ভ্রমণপিপাসু সাদা মনের মানুষ হাজীগঞ্জের রোটা. মো. কাওসার হোসেন লিটন

মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মকিমাবাদ গ্রামের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী রোটা. মো. কাওসার হোসেন লিটন। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সাদা মনের ও নিরহংকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত। হাজীগঞ্জ বাজারের স্বনামধন্য গাউছিয়া হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বাংলা চাইনিজ ফাস্ট ফুড-এর স্বত্বাধিকারী তিনি।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছেন কাওসার হোসেন লিটন। তার প্রতিষ্ঠানের নামে সংরক্ষিত সম্মাননা ও সনদপত্রে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চাঁদপুর জেলায় শ্রেষ্ঠ ভ্যাটদাতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে গাউছিয়া হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট। এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি সম্মাননা অর্জন করে।

সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও রয়েছে তার সম্পৃক্ততা। তিনি রোটারি ক্লাব অব হাজীগঞ্জের সঙ্গে যুক্ত এবং ২০১৮ সালে রোটারির সচিব ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিতদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শিত সনদে তার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ ও সফলভাবে তা সম্পন্ন করার স্বীকৃতিও রয়েছে।

নীরবে অসহায় মানুষের পাশে কাওসার হোসেন লিটনের মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাউছিয়া হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের কর্মীরা নিজেদের বেতনের অর্থ থেকেও এ ধরনের উদ্যোগে অংশ নেন। পাশাপাশি রেস্টুরেন্টের মালিক কাওসার হোসেন লিটনও নেপথ্যে থেকে এ কাজে সহযোগিতা করে আসছেন।

জানা যায়, কয়েক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার বাদ জুমা অসহায় মানুষের জন্য গোশত-ভাতের আয়োজন করা হয়। এ উদ্যোগে পরিচয় প্রকাশ না করে সহযোগিতা করার বিষয়টিকে তার ঘনিষ্ঠজনরা তার স্বভাবজাত নিরহংকার মানসিকতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতি সপ্তাহে অসহায় মানুষের জন্য খাবারের এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

তার ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, মানবসেবার কাজে প্রচারের চেয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোতেই বেশি গুরুত্ব দেন কাওসার হোসেন লিটন। সে কারণেই অনেক সময় তিনি নিজের সহযোগিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে আগ্রহী নন।

ব্যবসার পাশাপাশি ভ্রমণের নেশা ব্যবসা ও মানবসেবার পাশাপাশি কাওসার হোসেন লিটন একজন ভ্রমণপিপাসু মানুষ হিসেবেও পরিচিত। ব্যক্তিগত আগ্রহে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি নিজে এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে আগ্রহী নন। তার নিকটতম বন্ধু ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন সময়ে পাওয়া সম্মাননা, ক্রেস্ট ও সনদে তার কর্মকাণ্ডের কিছুটা পরিচয় পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের মতে, একজন উদ্যোক্তার পরিচয়ের বাইরে কাওসার হোসেন লিটনের আরেকটি পরিচয় হলো তিনি মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারেন এবং নিজের অবস্থানকে সামনে না এনে নীরবে মানুষের উপকার করতে পছন্দ করেন।

সাফল্যের পাশাপাশি মানবিকতার চর্চা
ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক সম্মাননা অর্জন, রোটারি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, অসহায় মানুষের জন্য নিয়মিত খাবারের আয়োজন এবং ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ সব মিলিয়ে হাজীগঞ্জের কাওসার হোসেন লিটনের জীবনযাত্রায় ব্যবসা ও মানবিকতার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়।

তার পরিচিতজনদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজের অবস্থান থেকে অবদান রেখে যাবেন। প্রচারের আড়ালে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার যে মানসিকতা তার মধ্যে রয়েছে, সেটিই তাকে স্থানীয়ভাবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে বলে মনে করেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রকাশিত :  ‍মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Views: 3

শেয়ার করুন